বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কয়েক গ্রামবাসী বলেন, নড়িয়া উপজেলার ঘরিসার ইউনিয়নের রাহাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল হামিদ চৌকিদারের ছেলে নাহিদুল। ২০১২ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর সংসার চালানোর দায়িত্ব পড়ে তাঁর কাঁধে। জীবিকার তাগিদে তিনি গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় যান। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে। ২০১৫ সালে ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় শাপলা হাউজিং সেন্টার নামের একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে কাজ শুরু করেন। ১৮ আগস্ট নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও পঙ্গু হাসপাতালে তিন মাস চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় চিকিৎসক দুটি হাত কনুইর ওপর থেকে কেটে ফেলেন। নাহিদুলের চিকিৎসা করাতে দরিদ্র পরিবারটিকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। ফসলি জমি ও বসতঘর বিক্রি করে দিতে হয়েছে। করতে হয়েছে ঋণ।

ঋণের বোঝা ও সংসারের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন নাহিদুল। আশ্রয় নেন সুরেশ্বর গ্রামে শ্বশুর নান্নু মালতের বাড়িতে। কিছুদিন পর গ্রামে সড়কের পাশে ছোট একটি দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন তাঁকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। ওই দোকানের আয় ও ভাতার টাকা দিয়ে কোনো রকমে সংসার ও দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ চলছিল। করোনায় তাঁর দোকানের বেচাবিক্রি কমে গেছে। আয় কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নাহিদুল। স্ত্রী, দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন।

নাহিদুল সড়কের পাশে সুরেশ্বর এলাকায় ছোট একটি কনফেকশনারির দোকান চালান। সড়কে ঘুরতে আসা মানুষ তাঁর দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করে। করোনায় মানুষ আসে কম, তাই বিক্রিও কম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আল্লাহ আমার হাত কেড়ে নিলেও মনের শক্তি ও সাহস বাড়িয়ে দিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে কয়েক লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে গ্রামে ফিরে আসি। কী করব ভাবতে পারছিলাম না। দিশেহারা হয়ে স্বজনদের সহায়তা নিয়ে সড়কের পাশে দোকান খুলে বসেছি। তার আয় দিয়ে ভালোই চলছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি কম, আয় নেই। চরম বিপাকে পড়েছি। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে আবার ঋণ করতে শুরু করেছি।’

নাহিদুলের স্ত্রী মুক্তা আক্তার বলেন, ‘নাহিদুল যখন দুর্ঘটনায় হাত দুটি হারায়, তখন আমাদের পৃথিবী থেমে গিয়েছিল। ওর মনের শক্তিতে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। করোনা আমাদের সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দোকানে বিক্রি কমে আয় কমে গেছে। দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ ও সংসারের খরচ জোগাতে এখন কষ্ট হচ্ছে। মানুষের কাছে হাত পেতে নয়, আমরা পরিশ্রম করে বাঁচতে চাই। আল্লাহ নিশ্চই আমাদের সহায় হবেন।’

ঘরিসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রব খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নাহিদুলের দুটি হাত নেই, কিন্তু সমাজে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাঁর। হাত দিয়ে কিছু করতে পারেন না, তারপরও তিনি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তাঁকে সাহায্য করে থাকি। কয়েক দিন আগে তাঁকে ১০ হাজার টাকা ধারও দিয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন