ওই অভিযোগের ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করেন। এ সময় তদন্তকারী দলের সদস্যরা অভিযোগকারী ফরিদুলকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে লিখিত সাক্ষ্য নিয়ে চলে যান। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রউফের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা ফরিদুলের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে ফরিদুলকে টেনেহিঁচড়ে স্থানীয় পীরেরহাট বাজারে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে পেটানো হয়। পরে গঙ্গাচড়া থানা-পুলিশ ফরিদুলকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদুল বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যসহ তাঁর অনুসারী সাতজনের নামে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়ে গত রোববার প্রথম আলোতে ‘সাক্ষ্য দেওয়ায় শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এরপর রোববার দুপুরেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার ও পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ আলী নির্যাতনের শিকার কলেজশিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তাঁরা ফরিদুলের কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনে তাঁকে অভয় দিয়ে অভিযোগের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর ফরিদুলের অভিযোগটি আজ থানায় নথিভুক্ত করা হয়। গঙ্গাচড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজায়ে রাব্বী মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় ওই কলেজশিক্ষার্থী আগেই একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে ওসিসহ তিনি তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। কলেজশিক্ষার্থীর কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনে তাঁকে এ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তাঁর লিখিত অভিযোগটি আজ থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশ আগে কেন ব্যবস্থা নেয়নি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরে শুক্রবার ইউপি চেয়ারম্যান সাদা কাগজের একটি মীমাংসাপত্র থানায় জমা দেন। এ জন্য মীমাংসা হয়ে গেছে মনে করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের পরামর্শ দেওয়া হয়।

ফরিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘টিসিবির কার্ড দিয়ে ২০০ টাকা করে নেওয়ার লিখিত অভিযোগ প্রথমে গঙ্গাচড়ার ইউএনওকে দেওয়া হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় দেরিতে মামলা হলেও কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ওই চেয়ারম্যানসহ অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে ইউএনও এরশাদ উদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিসিবির কার্ড দিয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার দপ্তরে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।’ কিন্তু প্রথম আলোর কাছে ওই ঘটনায় ফরিদুলের দেওয়া অভিযোগের গৃহীত কপিতে ইউএনও কার্যালয়ের সিল ও স্বাক্ষর আছে।

টিসিবির কার্ড দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গত ২৩ মার্চ প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ‘কার্ড নিতে দিতে হলো টাকা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন