default-image

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ উপাচার্যের বাসভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সভা-সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি নিষিদ্ধ।

রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এই নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তি গত বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল শুক্রবার এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আবু হেনা মোস্তফা কামালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে উপাচার্যের একান্ত সচিব আমিনুর রহমান বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে মুঠোফোনে বলেন, নির্দেশটি শুধু বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণ নিয়ে কিছু বলতে চাননি আমিনুর রহমান।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরে উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রেজিস্ট্রারের ওই বিজ্ঞপ্তি ৩১ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত হলেও গত বৃহস্পতিবার রাতে তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্যের বাসভবন, একাডেমিক ভবন ও শ্রেণিকক্ষের সামনে মিছিল, সভা-সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ প্রদর্শন, স্লোগান, বক্তব্য দেওয়া, মৌন মিছিলসহ কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না। প্রশাসনিক ভবনেও যেতে পারবেন না কেউ। এই নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৭৫তম বিশেষ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন। এর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ। এর আহ্বায়ক অধ্যাপক মতিউর রহমান বলেন, উপাচার্য নিজেই বছরের পর বছর ক্যাম্পাসে না এসে নিয়োগের শর্ত ভেঙে ও অনিয়ম করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে চলেছেন।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কাজে প্রশাসনিক ভবনে যেতে হয়। তাঁরা অনুমতি কার কাছে থেকে নেবেন? আর নিজ ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনে যেতে অনুমতি নিতে হবে কেন? আর সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম ফরিদুল ইসলাম বলেন, এসব হঠকারী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। অবিলম্বে এমন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, প্রক্টর আতিউর রহমান, সহউপাচার্য সরিফা সালোয়ার মুঠোফোনে গতকাল শুক্রবার একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন ধরেননি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন