পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে দানাবীর এলাকার আনিসুর রহমানের পাটখেতের ওপর দিয়ে গমের বোঝা নিয়ে যাচ্ছিলেন একই এলাকার আনোয়ার হোসেন (৫৭)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনিসুর রহমানের সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের কথা–কাটকাটি হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ময়নুল হক মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যান। এ সময় তিনিও আনিসুর ও তাঁর লোকজনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি টের পেয়ে আনিসুরের স্বজনেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে শুরু করলে ময়নুল হক মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পেছন থেকে আনিসুরের লোকজন তাঁকে ধাওয়া করেন। দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে সেখানে থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন ময়নুল হক। একপর্যায়ে শিকটিহারী-মির্জাপুর সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে যান ময়নুল হক। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

ময়নুল হকের ভাগনে রোকনুজ্জামান বলেন, ‘আমার মামাকে তাঁরা আগে মারধর করেছেন। পরে তিনি প্রাণ বাঁচাতে মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে গেলে তাঁরা আবারও তাঁকে ধাওয়া করেন। এ সময় তিনি পড়ে গিয়ে মারা যান। আমরা এ ঘটনায় মামলা করব।’

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিসুর রহমান পুলিশি নজদারিতে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

আটোয়ারীর বারঘাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক রঞ্জু আহম্মেদ বলেন, লাশের প্রাথমিক সুরতহালে তাঁর দুই পা এবং হাতের আঙুলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আহত দুজন আটোয়ারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশের নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ওসি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।