বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাবলু পালের বাড়ি রাজবাড়ীর খানখানাপুরে। তিনি কুন্ডুবাড়ির মৃৎশিল্পী মনিন্দ্র পালের ছেলে। তাঁর বাবা ছিলেন প্রতিমা তৈরির নিপুণ কারিগর। বাবা যেখানে যেতেন, সেখানেই পিছু নিতেন বাবলু। বাবার হাত ধরে ১৪ বছর বয়স থেকে মৃৎশিল্পের কাজ শুরু করেন তিনি। দেখতে দেখতে ৫০টি বছর কেটে গেছে। বাবা মারা যাওয়ায় এখন সবকিছু নিজেই করেন। প্রতিমার কারিগর হিসেবে বাবার মতোই এলাকায় তাঁর সুনাম।

দুর্গাপূজায় বাবলু পাল এবার গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি, ফরিদপুর বারোখাদায় একটি, রাজবাড়ী শহরের মাছবাজারে একটি এবং খানখানাপুরে দুটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন। গতকাল রোববার দেখা যায়, বাবলু পাল সহকর্মী প্রদীপ দাস ও সুনীল রায়কে নিয়ে গোয়ালন্দ শহরের হরিজন রামকৃষ্ণ শারদীয় দুর্গা মন্দিরে প্রতিমার রঙের কাজ করছেন। শেষ মুহূর্তে প্রতিমায় রঙের তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বাবলু পাল বলেন, সারা বছর পূজা থাকে। তাই প্রতিমা তৈরির কাজও থাকে। তবে দুর্গাপূজায় কারিগরদের চাহিদা বাড়ে। গত বছর করোনায় কড়াকড়ি থাকায় পূজা তেমন হয়নি। দুর্গাপূজার সময় তিনি একা প্রতিমা তৈরি করলে দু–তিনটি করতে পারেন। দু-তিনজন সহকারী থাকলে পাঁচ থেকে ছয়টি করতে পারেন। মণ্ডপ সাজাতে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি নেন। ছোট মন্দির ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। প্রতি মণ্ডপের প্রতিমার কাজ শেষ করতে তিনজনের ১০ থেকে ১২ দিন লাগে। প্রতিমা তৈরির আয় দিয়েই সংসার চলে।

বাবলু পালের চার মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। স্ত্রী ও মাকে নিয়ে তাঁর সংসার। পাঁচ বছর আগে বাবা মারা যান। অনেক আগে তাঁর দুই ভাই ভারতে চলে যান। বাবলু জানান, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪০০ প্রতিমা তৈরি করেছেন।

হরিজন রামকৃষ্ণ শারদীয় দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যাম কুমার ভক্ত বলেন, ‘ আগে জাঁকজমকভাবে মণ্ডপ সাজানো হতো। আর্থিকসংকটের কারণে এ বছর তেমন জাঁকজমক করতে পারছি না। প্রায় লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ তো আছেই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন