বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবাসন–সংকট

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের তিনটি ও ছেলেদের চারটিসহ মোট সাতটি আবাসিক হলের ব্যবস্থা আছে। যেখানে তিন হাজার শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পান। অন্যদের মেসে থেকে পড়াশোনা করতে হয়।

আবাসিকে সিট বরাদ্দ পেলেও সুযোগ-সুবিধা সীমিত। সাতটি হলের মধ্যে চারটিতে খাবার ক্যানটিন চালু আছে। তা–ও অনিয়মিত। ৭০ টাকায় দুই বেলা খাবার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। ফুড প্রসেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোরশেদুল আলম বলেন, নামমাত্র আবাসিকে থাকেন তাঁরা। কোনো লাইব্রেরি নেই। একটি কক্ষেই টিভি দেখা, পত্রিকা পড়া, খেলার ব্যবস্থা।

শেখ রাসেল হলের হল সুপার রাশেদুল ইসলাম বলেন, দ্রুতই এই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট

ধারণক্ষমতার অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করায় শ্রেণিকক্ষের সংকট প্রকট হয়েছে। তবে নির্মাণাধীন ১০তলা একাডেমিক ভবন চালু হলে সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুপাতে বর্তমানে শিক্ষক দরকার ছয় শতাধিক। আছেন ৩২১ জন। অর্থাৎ প্রতি ৩৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক। এতে বাড়ছে সেশনজট।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১০ বছরে এক ডজন নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। সে তুলনায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সাবেক ডিন মারুফ আহমেদ বলেন, যেহেতু এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এই বিভাগগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি।

ল্যাবে উপকরণের অপ্রতুলতা

মেকানিক্যাল বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইহানুল। এবার অনার্স শেষ করেছেন। বলেন, ‘প্রথম দুই সেমিস্টার নন ডিপার্টমেন্টাল ল্যাব কার্যক্রম থাকায় অ্যাগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ল্যাবে ব্যবহারিক ক্লাস করেছি। বিভাগীয় ল্যাব না থাকায় তত্ত্বীয় ক্লাস করেই অনার্স শেষ করতে হয়েছে।’ কয়েকজন শিক্ষক জানান, শুধু মেকানিক্যাল নয়, অন্যান্য বিভাগেও ল্যাবসংকট রয়েছে। আবার ল্যাবে প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক শ্রীপতি সিকদার জানান, গত ২২ বছরে ১ হাজারের বেশি বিষয়ে গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। তবে মৌলিক গবেষণার চেয়ে প্রায়োগিক গবেষণাই বেশি। গবেষণার মধ্যে ছয়টি শস্য জাত উদ্ভাবন, কালোজামের জুস ও মাল্টিক্রপ ড্রায়ার উদ্ভাবন উল্লেখযোগ্য।

খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা কম

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ বলতে শহীদ তাজউদ্দীন হলের মাঠ আর শেখ রাসেল হলের মাঠ। দুটি মাঠই ছোট। নেই কোনো স্টেডিয়াম। সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য নির্ধারিত ভবন কিংবা মুক্তমঞ্চ নেই। শিক্ষার্থীদের সংগঠন অর্ক সাংস্কৃতিক জোট, সেঁজুতি সাংস্কৃতিক ঐক্য, ডিবেটিং সোসাইটি উন্মুক্ত গাছতলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তবে এসবকে সংকট হিসেবে দেখতে চান না​ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রুহুল আমিন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স মাত্র ২২ বছর। এত কম সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এতগুলো বিভাগ, এত শিক্ষার্থী—এগুলো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা।

প্রতিষ্ঠাকালীন শুধু কৃষি অনুষদ নামে একটি অনুষদ ছিল। এখন সেখানে আটটি অনুষদে শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেকশনের পরিচালক বিকাশ চন্দ্র সরকার জানালেন, প্রতিবছর অর্ধশতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে বিশেষায়িত ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক। এটি মূলত একটি অ্যাম্বুলেন্স। এতে গবাদিপশুসহ বিভিন্ন প্রাণীর সার্জারিসহ উন্নত চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক সাজ্জাত হোসেন উদ্ভাবন করেছেন মাল্টি গ্রেন ড্রায়ার।

গত ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘যোগদানের পরই প্রতিটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সমস্যার কথা শুনেছি। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে গবেষণা সম্প্রসারণ এবং মাঠ গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন