বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গুলিবিদ্ধ জাকির কোতোয়াল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদরের তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে জাকির হোসেন কোতোয়ালের পরিবার নৌকার প্রার্থী জামাল হোসাইনের পক্ষে কাজ করে। আর সাংসদের ঘনিষ্ঠ বাচ্চু ব্যাপারী বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জামাল হোসাইন জয় পান।

এর জের ধরে বাচ্চু ব্যাপারী ও তাঁর সমর্থকেরা ১৪ নভেম্বর জাকিরের ভাই মেহেদী হাসানকে কুপিয়ে আহত করেন। ওই ঘটনায় থানায় মামলা না নিলে জাকির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাকির হোসেন মামলা করার জন্য পালং মডেল থানা যান। খবর পেয়ে বাচ্চু ব্যাপারী থানায় গিয়ে জাকিরকে শাসান। এরপরও মামলা করলে বাচ্চু ব্যাপারী তাঁর লোকজন নিয়ে থানার বাইরে অবস্থান নেন। রাত সাড়ে আটটায় জাকির তাঁর ভাই মনিরকে নিয়ে রিকশাযোগে শহরের বটতলা মসজিদ মার্কেটে যান। সেখানে বাচ্চু ও তাঁর সমর্থকেরা তাঁদের দুই ভাইয়ের ওপর হামলা করে কুপিয়ে আহত করেন। বাচ্চু ব্যাপারী আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে জাকিরের ডান পায়ে গুলি করেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁদের ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন।

default-image

আহত জাকিরকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর স্বজনেরা একটি ভিডিও করেন। সেখানে জাকির হামলার বর্ণনা দেন। ওই ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে এর আগে জানতে চাইলে সাংসদ ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার সময় শরীয়তপুরে ছিলাম না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখেছি। সেখানে আমার নাম জড়ানো হয়েছে। মুমূর্ষু মুহূর্তে কেন আমার নামে মিথ্যা কথা বলল, তা বুঝতে পারছি না।’

এই হামলাগুলোর ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়। একটি মামলার বাদী জাকির হোসেন এবং অপরটির বাদী তাঁর মা মনোয়ারা বেগম। দুটি মামলাতেই আসামি বাচ্চু ব্যাপারী। পুলিশ এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বাচ্চু ব্যাপারী শরীয়তপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও।

এসব ঘটনা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোয় ‘ঢাকার আওয়ামী নেতাকে শরীয়তপুরে গুলি’ এবং ‘মামলা হলেও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হয়নি’ শিরোনামে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এর আগে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংসদ ইকবাল হোসেনের বক্তব্য নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর প্রথম আলোয় ‘এমপি স্যার বলেছেন, চিতলিয়ায় কোনো নির্বাচন হবে না’ শিরোনামে আরেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন