default-image

প্রথম আলো পড়লে কখনো মনে হয় আওয়ামী লীগের সমর্থক, আবার কখনো মনে হয় বিএনপির। কখনো মনে হয় অন্য কোনো দলের, অন্য কোনো মতের কিংবা নিরপেক্ষতায় অবিচল। পত্রিকাটি তরুণদের উৎসাহ দেয়। প্রথম আলো অনেক কিছুই প্রথম শুরু করে।

গতকাল বুধবার সিলেটে ‘শিক্ষক মতবিনিময়’ সভায় বক্তারা এসব মন্তব্য করেছেন। সভাটি আয়োজন করা হয় সিলেটের শহরতলির কামালবাজার এলাকায় লিডিং ইউনিভার্সিটির গ্যালারি-১–এ। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে তিনটা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রথম আলো। সহযোগিতায় ছিল সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি।

সভায় শিক্ষকেরা বলেন, সম্প্রতি প্রথম আলো নতুন আঙ্গিকের পড়াশোনা পাতা নজর কেড়েছে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের। তাঁরা এই পাতায় প্রকাশিত সব লেখা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার আগে ম্যাগাজিন আকারে প্রকাশের অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মেজর (অব.) মো. শাহ আলম। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সিলেট প্রতিনিধি সুমনকুমার দাশ। শুরুতে প্রথম আলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত দুটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। 

বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, প্রথম আলোর মূল পত্রিকার সঙ্গে প্রতিদিনই বিভিন্ন নামে ক্রোড়পত্র থাকে, সেগুলো অসাধারণ হয়। এর মধ্যে স্বপ্ন নিয়ে চমৎকার, যা তরুণদের উৎসাহিত করে।

ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামীর দিনগুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিতে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন লেখা প্রকাশের অনুরোধ জানান তিনি। 

সিলেট উইমেন্স মডেল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল ওয়াদুদ তাপাদার বলেন, সিলেটে নারীরা শিক্ষায় এখনো অনেকটা পিছিয়ে। তাঁদের এগিয়ে নিতে প্রথম আলোকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। 

সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক বাবলী পুরকায়স্থ বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদ উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করে।

লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘প্রথম আলো যেমন সব ভালোর জন্য কাজ করে। আমরাও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে ভালোর জন্য কাজ করছি। আমরা ভবিষ্যৎ গ্র্যাজুয়েটদের মানসিক বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দিই। আমরা প্রথম আলোর সব ভালো কাজের সঙ্গী হতে চাই।’

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘প্রথম আলো সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মাদকবিরোধী প্রচারণা, গণিত অলিম্পিয়াড, ভাষা প্রতিযোগের আয়োজন করে থাকে। দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা দুটি অংশকে আমরা সম্মাননা দেওয়ার চেষ্টা করছি। একটি গত বছর শুরু হয়েছে তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার নামে। অন্যটি সেরা শিক্ষক সম্মাননা নামে শুরু হবে। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি প্রথম আলো যেসব উদ্যোগ নেয়, তার প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশের জয়। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতেই এত সব কাজ আমরা করি।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রথম আলোর যুব কর্মসূচির প্রধান মুনির হাসান।

আরও বক্তব্য দেন মদনমোহন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য, মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিন, সিলেট এমসি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রজত কান্তি সোম প্রমুখ। 

প্রীতিসম্মিলন ও মতবিনিময় 

বিকেলে সিলেটের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রীতিসম্মিলন ও মতবিনিময় সভা হয়। নগরের দরগাহ গেট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এই সভায় বক্তব্য দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য কামরুজ্জামান চৌধুরী, সম্পাদক মতিউর রহমান, সিলেট প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি নাসিম আহমেদ, আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উপপরিচালক মো. কাওসার মিয়া, হোটেল স্টার প্যাসিফিকের চেয়ারম্যান ফখরুদ্দিন আলী আহমদ, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক খন্দকার সিপার আহমদ, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক খন্দকার মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ দে, মুহিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম, বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফয়জুল হক, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মুহীতুল বারী, সিলেট উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি হাসিন আহমদ, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান মো. নাজমুল ইসলাম, সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন ফারুক, সীমান্ত ব্যাংক সিলেট শাখার ব্যবস্থাপক তারেক মাহমুদ, শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব জিবলু রহমান, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক সিলেট করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক তাহমিদ বকত চৌধুরী, ওয়েসিস হাসপাতালের সহকারী পরিচালক তাপস দেব, ঢাকা ব্যাংক সিলেটের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আজাদ উদ্দিন। সভায় সিলেটে প্রথম আলোর এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের দুই প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। 

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন