default-image

নাটোর সদর হাসপাতাল ও জেলার ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিকাকেন্দ্রে মোট ২০৭ জন করোনার টিকা নিয়েছেন। তবে জেলার তিন সাংসদসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও টিকা নেননি। টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ তেমন একটা চোখে পড়েনি।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা পৌনে ১১টায় নাটোর সদর হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এর পরপরই জেলার ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলায় মোট ২০৭ জন টিকা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১৪৪ জন ও নারী ৬৩ জন।

নাটোর সদর হাসপাতালে প্রথমে টিকা নেন জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ। পরে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান, সহকারী পরিচালক পরিতোষ কুমার রায়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক টিকা নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধন করলেও টিকা নেননি তিন সাংসদ

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলাম সকালে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। কিন্তু তিনি নিজে টিকা নেননি। একজন ফার্মাসিস্টকে টিকাদানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম দুপুর ১২টার দিকে সদর হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রে আসেন। তাঁর উপস্থিতিতে টিকা নেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা। অনেকেই তাঁকে টিকা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তিনি পরে ঢাকায় অন্য সাংসদদের সঙ্গে টিকা নেবেন বলে জানান।

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সাংসদ আবদুল কুদ্দুস গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তবে তিনিও টিকা নেননি। টিকা না নেওয়ার বিষয়ে নাটোর-২-এর সাংসদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৪০ জন সাংসদ একসঙ্গে ঢাকায় টিকা নেব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই আজ টিকা নিচ্ছি না।’

নিবন্ধন নিয়ে জটিলতা

নাটোরে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। এখানে করোনার টিকা এসেছে ৪৮ হাজার ডোজ। অথচ শনিবার রাত পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার ৫২১ জন নিবন্ধন করেছেন।

অনেকের অভিযোগ, ‘সুরক্ষা’ ওয়েব পোর্টালে ঢোকার পর নিবন্ধন করতে পারছেন না। এমনকি জেলায় কর্মরত প্রায় ৮০ জন সাংবাদিকের কেউই নিবন্ধন করতে পারেননি।
চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নাটোর প্রতিনিধি দেবাশীষ কুমার সরকার বলেন, তিনি অন্তত পাঁচবার চেষ্টা করেও নিবন্ধন করতে পারেননি। এমনকি গণমাধ্যম ক্যাটাগরিতে ঢুকেও নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী হাসিবুর রহমান বলেন, তিনি একের পর এক চেষ্টা করেও নিবন্ধন করতে পারছেন না।

নিবন্ধন বুথ ছিল না

নাটোরের টিকাদান কেন্দ্রগুলোর কোথাও তাৎক্ষণিক নিবন্ধন করার ব্যবস্থা ছিল না। কেন্দ্রে ইন্টারনেট সংযোগসহ ল্যাপটপ নিয়ে প্রস্তুত থাকার কথা থাকলেও এমন কাউকে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এই ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন