বিজ্ঞাপন

উপজেলার ৭৭টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের সদস্যরা এবার ঈদ উদ্‌যাপন করছেন উপহারের বাড়িতে। এর আগে তাঁরা ঈদ করেছেন ভাঙা ঘরে। অনেকে খোলা স্থানেও বসবাস করাসহ ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন। এবার তাঁরা পাকা বাড়িতে ঈদ করতে পারায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আনন্দও বাড়িয়ে দিয়েছে নিজের পাকা বাড়িতে ঈদ করতে পারায়।

কুঁড়েঘরে বসবাস করা ও ঈদের দিনে পাটের শাক দিয়ে ভাত খাওয়া অনাথ আরিফা ও রায়হানের মনে এবার ঈদের আনন্দ। এবার আর তাদের শাক-ভাত খেতে হচ্ছে না। নিজেরা বাজার থেকে পোলাওয়ের চাল আর পোলট্রি মুরগি কিনে এনেছে। সঙ্গে মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া নতুন পাকা বাড়ি।

উপজেলার বুজরুককোলা গ্রামের অনাথ ভাই-বোন আরিফা ও রায়হানের ঈদ উদ্‌যাপন ও কুঁড়েঘরে থাকা নিয়ে গত বছর ঈদের দিনে প্রথম আলোর অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তা নিয়ে আলোচনা হয় ব্যাপক। ঈদের দিনেই অনেকে খাবার নিয়ে হাজির হন তাদের বাড়িতে। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যোগাযোগ করে অনাথ শিশু ভাই-বোনের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন অনেকে। এ ছাড়া প্রশাসনের নজরে আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি পাকা বাড়ি উপহারের ব্যবস্থা করে দেন। ইউএনওর তত্ত্বাবধানে তৈরি হয় পাকা বাড়ি। এ ছাড়া সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ইউএনও। এবার তারা ঈদ উদ্‌যাপন করছে সেই পাকা বাড়িতে।

আজ শুক্রবার সকালে তাদের নতুন বাড়িতে ঈদের আনন্দ করতে দেখা যায়। বাড়ির সামনে সরকারি সাবমার্সেবল পানির পাম্প। তারা নতুন পোশাক পরে আছে বাড়িতেই। শিশু আরিফা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা জানায়, নিজেরাই জমানো টাকা দিয়ে ঈদের বাজার করেছে। নতুন জামাকাপড় কেনাসহ বাজার থেকে চিকন চাল, সেমাই ও মুরগি কিনেছে। এসব দিয়ে ঈদ হচ্ছে তাদের। নতুন বাড়িতে ঈদ করতে পারায় ভালো লাগছে বলে মন্তব্য তাদের। তারা এ জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রথম আলোর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

বড়বিহানালী পশ্চিমকান্দি গ্রামের আঞ্জুয়ারা বেগম (৫০) প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা বাড়িতে ঈদ করছেন। বাড়িতে চলছে পোলাও রান্না। গত ঈদ করেছেন খোলা স্থানে। তিনি বলেন, এবার ঈদের আনন্দটাই বেশি। নিজের বাড়িতে ঈদ করতে ভালো লাগছে। জীবনে এ রকম ঈদ আনন্দ আর আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যান এ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।

বড়বিহানালী ইউপির চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান বলেন, পরিবারটি খোলা স্থানে বাস করত। কোনো আনন্দও ছিল না। প্রধানমন্ত্রী তাদের বাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ইউনিয়নের আরও ছয়জন পাকা বাড়িতে এবার ঈদ করছেন। আরও পাঁচটি বাড়ির নির্মাণকাজ চলছে। ঈদের আগে তাদের নগদ ৫০০ ও ৪৫০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

মাড়িয়া ইউনিয়নের যাত্রাগাছি আশ্রয়ণে গিয়ে একটি পরিবারকে নতুন ঘরে ঈদ উদ্‌যাপন করতে দেখা যায়। পরিবারটি আগে সরকারি সড়কের পাশে থাকত। এবার নিজেদের পাকাঘরে ঈদ করছে বলে জানিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, দুর্যোগসহনীয় প্রকল্পে ঘরসহ মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া পাকা ঘরে সুবিধাভোগীরা বসবাস শুরু করেছেন। তাঁদের জমির দলিলও বুঝে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফ আহম্মেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার যাঁরা পেয়েছেন, সবাই খুশি। খুঁজে খুঁজে বের করে তাঁদের এই উপহারের আওতায় আনা হয়েছে। রায়হান-আরিফাসহ যাঁরা নতুন ঘরে ঈদ করতে পারছে তাঁদের জন্য নিজেরও ভালো লাগছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন