default-image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অগ্রগতির জন্য দস্যু ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে যাঁরা ভুল স্বীকার করবেন, তাঁদের পুনর্বাসন করা হবে। আর্থিক সহায়তা হিসেবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আসাদুজ্জামান খান এসব কথা বলেন। বেলা আড়াইটার দিকে র‍্যাব ৭ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে খুলনা থেকে আগে আত্মসমর্পণকারীদের নিয়ে অনলাইনে যুক্ত হয় র‍্যাব ৬ ও ৮।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘হত্যা ও ধর্ষণের বিষয় বাদ দিয়ে অন্য বিষয়গুলো আমরা দেখব। তবে হত্যা ও ধর্ষণের বিষয়টি আইনানুসারে চলবে।’

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ১১টি দস্যুবাহিনীর ৩৪ জন সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় দস্যুরা আসাদুজ্জামান খানের হাতে ৯০টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও ২ হাজার ৫৬টি গুলি তুলে দেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে বিশ্ব নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন। তিনি শান্তির জন্য নোবেল পেতে পারেন। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।’

বিজ্ঞাপন

আত্মসমর্পণ শেষে র‍্যাব ৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পাবনা–১ আসনের সাংসদ শামসুল হক টুকু, বাঁশখালী আসনের সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

আমার দেবর মো. জাকের কিছুদিন আগে ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। ওই ঘটনার পর খুব ভয়ে ছিলাম। আমার স্বামীর নামেও আটটি মামলা আছে। তিনি আত্মসমর্পণ করায় মানসিকভাবে শান্তি পাচ্ছি। এখন তিন মেয়ে নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারব।
কামরুন্নাহার, আত্মসমর্পণকারী এক ব্যক্তির স্ত্রী

আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ভালো খবর আমরা বাংলাদেশ থেকে পাই না। বিদেশের গণমাধ্যম থেকে পেতে হয়। আমরা ইতিবাচক খবরগুলো দেশের গণমাধ্যম থেকে পেতে চাই। কিছু কুলাঙ্গার দেশ-বিদেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াচ্ছে। এসব গুজবে কান দেবেন না। মূল ধারার গণমাধ্যমে বিশ্বাস করবেন। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানান উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী নেজাম মাঝি, আত্মসমর্পণকারী একটি দস্যুদলের সর্দার আবদুল হাকিম ওরফে বাইস্যা, বাঁশখালীর চাম্বল এলাকার বাসিন্দা ও দস্যুদলের সদস্য মো. আলী ওরফে ভুট্টুর স্ত্রী কামরুন্নাহার।

কামরুন্নাহার বলেন, ‘আমার দেবর মো. জাকের কিছুদিন আগে ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। ওই ঘটনার পর খুব ভয়ে ছিলাম। আমার স্বামীর নামেও আটটি মামলা আছে। তিনি আত্মসমর্পণ করায় মানসিকভাবে শান্তি পাচ্ছি। এখন তিন মেয়ে নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারব।’

অনুষ্ঠান শুরুর আগে র‍্যাবের মুখপাত্র লে, কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, উপকূলে ৩০-৩৫ লাখ লোক বাস করলেও হাজারখানেক জলদস্যুর উৎপাত ছিল। এ আত্মসমর্পণের ফলে উপকূলে শান্তি আসবে। ধর্ষণ ও হত্যা মামলা বাদে অন্য আসামিদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি আইনি সহায়তা দেবে র‍্যাব।

এর আগে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0