default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বধ্যভূমিতে শহীদদের নামফলক ও স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন আবারও পিছিয়ে গেল। আজ ২৫ মার্চ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।

এই নামফলক ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এটি উদ্বোধনের জন্য তিনবার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তখনো এর উদ্বোধন স্থগিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কে হবেন, তা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আটকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

১১ মার্চ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে বিটঘর বধ্যভূমিতে শহীদদের নামফলক ও স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ার কথা ছিল জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানের। উদ্বোধন করার কথা ছিল শহীদজায়া মালেকা খাতুনের (৭৫)।

এ সম্পর্কে ইউএনও আরিফুল হক আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের শেষ বিকেলে বিটঘর বধ্যভূমির নামফলক ও স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। তবে সন্ধ্যার পরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে বিটঘর বধ্যভূমিতে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠান স্থগিত করার কারণ সম্পর্কে ইউএনও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিটঘর বধ্যভূমিতে শহীদদের নামফলক ও স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন কে করবেন—এ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এক সাংসদ এটি উদ্বোধন করতে চান। এতে আপত্তি তুলেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

বিজ্ঞাপন
default-image

এ সম্পর্কে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইসমত আলী বলেন, ‘বিটঘর বধ্যভূমির নামফলক ও স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হবেন জেলা প্রশাসক এবং উদ্বোধক হবেন শহীদজায়া মালেকা খাতুন। এর ব্যত্যয় ঘটলে আমরা মেনে নিতে পারি না।’

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বিটঘর গ্রামটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এ গ্রামের মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহযোগিতা করতেন। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার বাহিনী ৩১ অক্টোবর বিটঘর গ্রামে হানা দিয়ে ৮০ জনকে হত্যা করে। ওই দিন রাজাকাররা গ্রামে নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়।

যে স্থানে ৮০ জনকে হত্যা করা হয়, সেই ভূমির মালিক ছিলেন শহীদ শামসুল হক। স্বামীসহ ৮০ জনের মৃত্যুর স্থানটি আগলে ধরে রেখেছেন মালেকা খাতুন। তাঁর ইচ্ছা ছিল স্বামীর রক্তমাখা স্থানটি সংরক্ষণ করে শহীদদের নামে একটা কিছু করা হোক। তাই মালেকা খাতুন ২০০৪ সালে ১৫ শতক জমিটি বধ্যভূমির নামে লিখে দেন।

২০১৮ সালে বর্তমান জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগদান করেন। এরপর বিষয়টি তাঁর নজরে আনেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। প্রশাসনের উদ্যোগে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বধ্যভূমিতে আটটি নামফলক ও একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন