বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মামলার প্রধান আসামি রিমন আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তখন জোবায়েরসহ কয়েক সহযোগীর নাম প্রকাশ করেন তিনি। এরপর জোবায়েরকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর রাতেই ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জোবায়েরকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। আদালত শুনানি শেষে আসামি জোবায়েরকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানান ডিবির পরিদর্শক সাবজেল হোসেন।

এদিকে তাসপিয়া হত্যা মামলার আরও চার আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁরা হলেন সোহেল উদ্দিন, মো. সুজন, নাইমুল ইসলাম ও আকবর হোসেন। আদালত তাঁদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক সাবজেল হোসেন বলেন, পাঁচ দিনের রিমান্ডে আসামিদের দুজন দাবি করেন, তাঁরা ওই দিন ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। আর দুজন ঘটনাস্থলে রিমনের সঙ্গে ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারী কর্মকতা বলেন, রিমান্ডে থাকা চার আসামির একেকজনের একেক ধরনের বক্তব্য থাকায় তাঁদের কাউকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। পরে আদালত আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

১৩ এপ্রিল বিকেলে শিশু তাসপিয়াকে চিপস ও জুস কিনে দিতে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর মালেকার বাপের দোকান এলাকায় যান প্রবাসী আবু জাহের। তিনি তাঁর ভাগনে আবদুল্লাহ আল-মামুনের দোকানে কথা বলছিলেন। এমন সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে রিমন কয়েকজন সহযোগী নিয়ে সেখানে হামলা চালান। এ সময় জাহের তাঁর মেয়েকে কোলে নিয়ে পালানোর সময় গুলি করে রিমন। এতে শিশু তাসপিয়ার মাথা ও মুখমণ্ডল গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। আর তাঁর বাবা আবু জাহেরও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে কুমিল্লায় তাসপিয়ার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় তাসপিয়ার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বুধবার বেগমগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় রিমনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে। মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। এ মামলায় পুলিশ ও র‌্যাব এ পর্যন্ত ১১ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে ৯জন এজাহারভুক্ত এবং দুজন এজাহারবহির্ভূত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন