এ ঘটনায় ওই এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাবা গত বৃহস্পতিবার কালিয়াকৈরের ইউএনও এবং স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন বা পুলিশ এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রধান শিক্ষকের মারধরে আহত ওই ছাত্রী চার দিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত শনিবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক হাসপাতালে গিয়ে ওই ছাত্রীকে দেখতে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় ও ইউএনও অফিসে দেওয়া অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীর পরিবার ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মজিদচালা উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদায় অনুষ্ঠানের কথা বলে ১০৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে আদায় করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার সকালে পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন তাদের বিদায়ে মিলাদের জন্য পাঁচ কেজি জিলাপি নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় ওই শিক্ষার্থীসহ তার কয়েকজন সহপাঠী জানায়, তাদের কাছ থেকে শিক্ষকেরা প্রায় ৬০ হাজার টাকা উঠিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে পাঁচ-ছয় কেজি জিলাপি কেনা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছে এত টাকা দিয়ে কী করেছেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

পরে প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ওই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অফিসকক্ষের সামনে ডেকে নিয়ে চুলের মুঠি ধরে এলোপাতাড়ি চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন। খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর বাবাসহ পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এখনো সেখানে সে চিকিৎসাধীন।

ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাথালিয়া মজিদচালা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষার্থীসহ তার কয়েকজন সহপাঠী মেয়েশিক্ষার্থী গেঞ্জি পরে বিদ্যালয়ে বিদায় অনুষ্ঠানের মিলাদ মাহফিলে আসে। তাদের বাসায় গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে আসতে বলা হয়েছিল। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা চলে গেলেও ওই শিক্ষার্থী যায়নি। উল্টো খারাপ ব্যবহার করলে তাকে কয়েকটা চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়।’

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে অভিযোগ এখনো হাতে পাননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা (ইউএনও) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ঘটনাটি তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন