বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে পিএডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে চার কক্ষের টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালের মে মাসে তিস্তা নদীর ভাঙনের কারণে ভবনটি হুমকির মুখে পড়লে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ভবন ভেঙে রড, অ্যাঙ্গেল, পিলার, টিন, চেয়ার, বেঞ্চসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে রাখেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন চলতি বছরের জুন মাসে ওই মালগুলো গোপনে বিধিবহির্ভূতভাবে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন। তবু এখন পর্যন্ত ওই প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ওই অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি তহবিল থেকে বরাদ্দ পাওয়া ২ লাখ টাকার মধ্যে ৩৩ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা তাঁরা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগকারীরা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি গত ১৩ জুন ওই ভবনের পুরোনো রড ও লোহার অ্যাঙ্গেল লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা বাজারের আহসান ডিজিটাল ব্রিজ স্কেলে নিয়ে পরিমাপ করেন। ওজন ছিল ৪০ মণ ৩০ কেজি। এর সপক্ষে ওই ব্রিজ স্কেল থেকে ভাউচার সরবরাহ করেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বিদ্যালয় এলাকার আজিম উদ্দিন, আবদুল মতিন, আশরাফ আলী, সাজু মিয়া, আবদুল বাকী, রফিকুল ইসলাম, ফেরদৌস আলী, আবদুল জলিল, বদরুল ইসলাম ও আয়নাল হোসেনের কাছে ওই ভবনের ঢেউটিন, ইট, কাঠ, দরজা, পিলার, জানালা, বেঞ্চ, টিউবওয়েল, চেয়ার ও টেবিল বিক্রি করা হয়েছে। কিছু সরঞ্জাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বাড়িতে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করছেন।

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল হক অভিযোগ করে বলেন, গরুর গাড়িতে করে বিদ্যালয়ের ভবনের ৫টি দরজা, ৪০টি বেঞ্চ, ১৬টি ঢেউটিন ও ৫টি জানালা বিদ্যালয়ের সভাপতি বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সভাপতি জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ওই ভবনের মালামাল বিক্রির টাকা প্রধান শিক্ষক নিয়েছেন ১ লাখ। আমি নিয়েছি ৭৫ হাজার টাকা। বাকি টাকা পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যরা নিয়েছেন।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘সবকিছু করেছেন কমিটির লোকেরা। আমি তখন অসুস্থ ছিলাম। তবে বিদ্যালয় সংস্কারের দুই লাখ টাকা বিদ্যালয়েরই কাজে লাগানো হয়েছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসলিমা বেগমের মুঠোফোনে আজ শনিবার সকালে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাগমা সিলভিয়া খান মুঠোফোনে বলেন, ‘ইউএনও নির্দেশ দিয়েছেন ওই অভিযোগ তদন্ত করার জন্য। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। আমি আজই তদন্ত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন