কক্সবাজারে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে  অনেকটাই ফাঁকা কলাতলী সৈকত সড়ক। বৃহস্পতিবার বিকেলে
কক্সবাজারে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে অনেকটাই ফাঁকা কলাতলী সৈকত সড়ক। বৃহস্পতিবার বিকেলে ছবি: প্রথম আলো

কক্সবাজারে সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবারও ব্যাপক কড়াকড়ি চলছে। ব্যস্ততম সড়কগুলো অনেকটা লোকশূন্য। দোকানপাট-বিপণিবিতান বন্ধ। তবে কাঁচাবাজারে সকাল থেকে লোকজনের ভিড় লেগে আছে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না।

সকাল থেকে সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশ পাহারা বসিয়ে চালিয়েছে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি। বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত শহরের ব্যস্ততম বাইপাস সড়ক, কলাতলী সৈকত সড়ক, শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে লোকশূন্য দেখা গেছে। তবে সড়কে মাঝেমধ্যে কিছু রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক  চলাচল করছে।

দুপুর ১২টায় সমুদ্রসৈকতের কলাতলী হাঙর ভাস্কর্য মোড়ে দেখা গেছে, সেখানে ট্রাফিক পুলিশ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন শহরে ঢুকতে দিচ্ছে না তারা।

বেলা দুইটার দিকে লাবণী পয়েন্ট সড়কও ফাঁকা দেখা গেছে। প্রচণ্ড গরমে কাহিল পুলিশ সদস্যরা পাশের যাত্রী ছাউনিতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। সড়কে কোনো লোকজন নেই।

এদিকে সকালের দিকে শহরের কাঁচাবাজারে ছিল মানুষের ভিড়। বাহারছড়া বাজারে দেখা গেছে, গিজগিজ করছে মানুষ। এ সময় স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না। সামাজিক দূরত্বও মানা হয়নি। শহরের বড় বাজার, কালুরদোকান, টেকপাড়া বাজারেও লোকসমাগম বেশি ছিল।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, হাটবাজারগুলোতে লোকসমাগম হচ্ছে বেশি। ফলে স্বাস্থ্যবিধির বাস্তবায়ন হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ রোধে হাটবাজারগুলো উন্মুক্ত জায়গায় দ্রুত সরিয়ে আনা দরকার।
কক্সবাজার শহরের বাইরে টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া উপজেলাতেও কড়াকড়ি লকডাউন চলছে। সকালে টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন হাটবাজার ও এলাকায় অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সড়কে যানবাহন চলাচল এবং দোকানপাট খোলার কারণে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, হাটবাজার এবং দোকানপাটে অভিযান চালাচ্ছেন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলার আটটি উপজেলাতেও ইউএনওদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে পুলিশ মাঠে নেমেছে। যানবাহন চলাচল রোধসহ লোকজনের অহেতুক চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোথাও দোকানপাট খোলা হচ্ছে কি না, তা–ও নজরদারিতে রাখতে হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন