বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত রোববার পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গণেশতলায় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরে লেখা ‘এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিষেধ’। অথচ সাইনবোর্ডের নিচেই ময়লার স্তূপ। ইজিবাইকে করে শিক্ষার্থীরা স্তূপের পাশেই নামছে। নাক চেপে ঢুকছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। স্তূপের মাত্র ২০ মিটার দূরেই ভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে ফুচকা, ঝালমুড়ি। ক্লাসের ফাঁকে সেখানে ভিড় করছে শিক্ষার্থীরা।

সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লায়লা হাসনা বানু বলেন, ময়লা ফেলতে ফেলতে দেয়ালটাই নষ্ট হতে শুরু করেছে। একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কাজ হয়নি। বিদ্যালয় ছুটির সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ময়লার দুর্গন্ধে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।

শহরের ঘাষিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাচীর ঘেঁষে আবর্জনার স্তূপ। এ ছাড়া পাহাড়পুর এলাকায় ইকবাল হাইস্কুল, ঘাষিপাড়ায় আদর্শ কলেজ, গণেশতলায় সেন্ট যোসেফ স্কুল, নিমতলায় সংগীত কলেজে যাওয়ার রাস্তা, ঈদগাঁ বস্তি এলাকায় ইদগাহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, নিমনগরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনেও ময়লার স্তূপ দেখা যায়। এর বাইরে কালিতলায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রাচীর, অরবিন্দু শিশু হাসপাতালের সামনে রাখা তিনটি ডাস্টবিনে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ফেলা হচ্ছে।

শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার রাশেদ মিলন অভিযোগ করেন, পৌর মেয়রের অদক্ষতায় পৌরবাসী এক যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এর ওপর জনগণেরও সচেতনতার অভাব আছে।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে ডাস্টবিন রয়েছে ১১৫টি। এর মধ্যে ১৬টি ডিপো, যেখানে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন শহরের ময়লা জমা করেন। এ ছাড়া ৯৮টি আবাসিক ডাস্টবিনে ফেলা হয় বসতবাড়ির ময়লা।

এসব ডাস্টবিনের বেশির ভাগই ভাঙা ও উন্মুক্ত। এ ছাড়া শহরে ডাস্টবিনেরও অভাব আছে। পৌরসভার পয়ঃপ্রণালি শাখার পরিদর্শক নাঈম হোসেন বলেন, সুষ্ঠু ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য সর্বনিম্ন ৩৫০টি ডাস্টবিন প্রয়োজন, সেখানে ডাস্টবিন আছে ১১৫টি। ফলে মানুষ উপায় না পেয়ে যেখানে–সেখানে ময়লা ফেলছেন।

মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাস দুয়েকের মধ্যে নালা ও ডাস্টবিন তৈরির কাজ শুরু হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে যাতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন