বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। প্রচণ্ড রোদের পর হঠাৎ ধান বের হওয়ার সময় বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকের আমন ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার উপজেলার ইকরচালী, হাড়িয়ারকুঠি, সয়ার, আলমপুর ও কুর্শার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ধানখেতে সবেমাত্র শিষ বের হয়েছে। কিন্তু খেত সাদা ও হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। শুকিয়ে গেছে অনেক আমন খেতের শিষ।

মঙ্গলাডুবের মাঠে খেতের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন দোলাপাড়া গ্রামের কৃষক মহুবার হোসেন (৫৫)। ধানখেতের পরিস্থিতি কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে ৮০ শতক জমিত গুটি স্বর্ণা জাতের ধান লাগিয়েছিলাম। ১৫ দিন আগে বৃষ্টির পর খেতে অর্ধেক ধান চিটা হয়ে গেছে। এখন কী করমু, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। খেতজুড়ে ধান মরে সাদা ও হলুদ হয়ে গেছে। শিষে থাকা ধান চিটা হয়ে গেছে।’

মঙ্গলাডুব মাঠের পাশে ডাঙ্গাপাড়ার মাঠে খেতে মরা ধানের শিষগুলো তুলছিলেন ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক বিষু মিয়া (২৬)। তিনিও এবার ৫০ শতক জমিতে গুটি র্স্বণা জাতের ধান চাষ করেছেন। বিষু বলেন, ‘এবার হামার কপাল খারাপ হইচে। ধানের শিষ বের হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় খেতের অর্ধেক ধান চিটা হয়ে গেইছে। দফায় দফায় খেতোত ওষুধ দিছি। তা–ও ধান রক্ষা করতে পারলাম না। এবার বড় লোকসান হইবে।’

মাঝেরহাট বাজারে কথা হয়, খামার কাঁচনা গ্রামের আজিজার রহমান সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ধানখেত যেভাবে হলফলা হয়া উঠছিল দেখি মনে হছলো এবার ভালোয় ধান হইবে। ধানের সউগ গাছোত শিষও বেরাছলো। কিন্তু হঠাৎ ঝরিত শিষ ও ফুল পড়ি যাওয়ায় অর্ধেক ধান পাতান (চিটা) হয়া গেইছে। ধান টিপি দেখ চাল নাই। কৃষি অফিসের লোকের গোড়োত গেছনু। ওরা কয় এ রোগের নাকি ওষুধ নাই।’

লক্ষ্মীপুরের মাঠে আমন খেতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন ডারারপার গ্রামের কৃষক জামরুল ইসলাম (৪২)। তিনি বলেন, ‘ভাই ধান চাষ করি মোর পাঁচ সদস্যর সংসার চলে। এবার খেতের অর্ধেক পাতান হয়া গেইছে। বাকি ধান যাতে নষ্ট না হয়, অন্য রোগবালাই যাতে না ধরে, সেই তকনে ভুইয়োত কীটনাশক দেওছু। ধান টিকার না পাইলে তো বউ–ছাওয়াক নিয়া উপাষ থাকির নাগেব।’

পূর্ব দোলার মাঠে চিটা হয়ে যাওয়া ধানখেতের পাশে কথা হয় ফকিরপাড়া গ্রামের কৃষক মইনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এবার হামরা কি করমু। কেমন করি সংসার চালামু। ধান তো চিটা হয়া গেইছে। এ রোগ সারবার কোনা ওষুধও খুঁজি পাওছি না। কৃষি বিভাগেরও লোকজন তো কোনো পরামর্শ দেওচে না। খেতের ধান চোখের সামনোত নষ্ট হয়া যাওছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাসসুম মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। প্রচণ্ড রোদের পর বৃষ্টি হওয়ায় এবং তাপমাত্র কমা–বাড়ার কারণে কিছু খেতের ধান চিটা হয়ে গেছে। যেহেতু এটা রোগ নয়, সেহেতু কীটনাশক প্রয়োগ করা বৃথা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন