বিজ্ঞাপন

শুক্রবার বিকেলে পৌর ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব ঠিক রেখে নৃ ফাউন্ডেশনের দেওয়া খাবার খাচ্ছেন দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। সংগঠনটির কয়েকজন সদস্য খাবার বিতরণ করেছেন।

খাওয়া শেষে কথা হয় শহরের চাপাতলী এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. ফকির মিয়ার (৬০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভিক্ষা কইরা দিন চালাই। ঈদের দিন এমন ভালো খাবার খামু, চিন্তাও করতে পারি নাই। প্রায় এক বছর ধইরা এই সংগঠনের লোকজন আমগোরে দুপুরের একবেলা খাবার দিতাছে। পুরা রমজান মাসে আমগরে ইফতার খাওয়াইছে। আর আইজকা ঈদের দিন ভালো খাবার দিছে। এই জন্য আমি খুব খুশি।’

শহরের চাপাতলী এলাকার জন্মান্ধ মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘অন্ধ বইলা কোনো কাজ করতে পারি না। ৮–৯ মাস ধইরা এই সংগঠনের কয়েকজন যুবক, আমারে দুপুরের খাবার দিতাছে। ঈদগাহ মাঠে বইসাই খায়া যাই। আর আইজকা ঈদের দিনে অনেক ভালো খাবার দিছে।’

default-image

শহরের শিংপাড়া এলাকার বিধবা মোছা. বেগম (৫০)। ভিক্ষা করে যা পান, তা–ই দিয়েই কোনোমতে চলে সংসার। প্রায় এক বছর ধরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিনি খাবার পেয়েছেন। ঈদের দিন ভালো খাবার খেয়ে বেশি খুশি তিনি।

এক বছর আগে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শেরপুরের একদল তরুণ নৃ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ২৫। সংগঠনের সভাপতি হচ্ছেন ফিরোজা-মর্তুজ হাসপাতালের চিকিৎসক ফয়জুল আলম, আর সাধারণ সম্পাদক হলেন তরুণ ব্যবসায়ী মাজহারুল হক। এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আওরঙ্গজেব আকন্দ, কলেজশিক্ষক সাইফুল ইসলাম, ওরিয়ন গ্রুপের কর্মকর্তা দীপন বণিক, স্কুলশিক্ষক রাজীব আহমেদ প্রমুখ।

মাবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক আওরঙ্গজেব আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। অনেকের একবেলা খাবার জোটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা কয়েক বন্ধু মিলে নৃ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গত বছরের আগস্ট মাস থেকে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে দুপুরের একবেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে। এবার রমজানে প্রতিদিন গড়ে দেড় শ মানুষকে ইফতারি দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির সদস্যরা জানান, চারজন দুস্থ নারীকে বিনা মূল্যে চারটি সেলাই মেশিন, দুজন সবজিবিক্রেতাকে দুটি ভ্যান, একজন নারীকে একটি ছাগল, দুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গরিব শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মূলত সংগঠনের সদস্যদের দেওয়া অর্থের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সংগঠনের কর্মসূচি দেখে শেরপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া ২০ হাজার টাকা অনুদান দেন। দেশের বাইরে থেকেও তাঁদের অনেক শুভার্থী সহায়তা করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন