বীর বিক্রম আব্দুল খালেকের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী

গেজেট বিভ্রাটে স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর গত ৬ জুন নতুন প্রকাশিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে আব্দুল খালেকের নাম ওঠে। গত ৩০ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এবার তাঁর স্ত্রীর হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে

বিজ্ঞাপন
default-image

দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৫০ বছর পর বীর বিক্রম খেতাব পান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক। গেজেট বিভ্রাটের কারণে এত দিন বীর বিক্রম আব্দুল খালেক স্বীকৃতি পাননি। গত ৩০ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার আগে গত ৬ জুন নতুন প্রকাশিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে তাঁর নাম ওঠে। তাঁর মৃত্যুর পরে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রী মাসুরা বেগমের হাতে এবার পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার বিকেলে নৌবাহিনীর কমান্ডার মঞ্জুর এই চেক হস্তান্তর করেন। তিনি খুলনা থেকে এসেছিলেন। বীর বিক্রম আব্দুল খালেক নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন। এ সময় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামানসহ স্থানীয় কয়েক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের কবর জিয়ারত করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চাপাল গ্রামে। তিনি ১৯৬৩ সালের ১ জুন নৌবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। ১৯৬৯ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ৭ নম্বর সেক্টরে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। গোদাগাড়ীর খেতুর গ্রামের শত্রুবাহিনীর একটি ক্যাম্প ধ্বংস করার সময় তাঁর বুকে গুলি লাগে। মুক্তিযুদ্ধে এই অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয়। ৩০ জুলাই মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথমে ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত গেজেটে আব্দুল খালেকের নামের পাশে এক ধরনের ভুল ছিল, পরে ২০০৪ সালের গেজেটে ছিল আরেক ধরনের ভুল। প্রথমবার লেখা হলো ‘এক্স নেভি’, পরেরবার সেনাবাহিনী। তাঁর অফিশিয়াল নম্বরের শেষে ১৯–এর জায়গায় ভুলবশত লেখা হয়েছিল ৯১, যা ছিল পাঞ্জাবি সৈন্যের। ২০১১ সালে জনতা ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঠিকানাবিহীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাঁর বাবার নাম, নৌবাহিনীর পদবি ও সার্ভিস নম্বর দেওয়া ছিল। তার ভিত্তিতে তাঁরা গেজেট সংশোধন করার জন্য আবেদন করেন। সে আবেদন মন্ত্রণালয় থেকে হারিয়ে যায়। গত বছর নতুন করে আবার আবেদন করেন। সেই আবেদনেই স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর তিনি বীর বিক্রম খেতাব পান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন