default-image

রাজশাহীর বাঘায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির হয়েছিল এক কলেজছাত্রী (১৭)। শুরু করেছিল অনশনও। এ পরিস্থিতিতে তার ‘প্রেমিক’ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। পরে ওই ছাত্রীর বাবা বাঘা থানায় ওই প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এর পরপরই পুলিশ অনশনরত ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে আজ শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে গৌরাঙ্গপুর গ্রামের সাজদার রহমানের ছেলে আবদুল্লার (২৫) সঙ্গে সম্পর্ক শুরু হয় একাদশ শ্রেণিপড়ুয়া ওই কলেজছাত্রীর। তাঁদের এ সম্পর্কের কারণে তাঁরা একাধিকবার দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। তবে কিছুদিন আগে ওই কলেজছাত্রীকে না জানিয়ে আবদুল্লার আরেক জায়গায় বিয়ে ঠিক করে আবদুল্লার পরিবার। বিয়ের দিনক্ষণও চূড়ান্ত হয়। এ খবর পেয়ে কলেজছাত্রী প্রেমিক আবদুল্লার বাড়ির সামনে গত বুধবার থেকে অনশনে বসে। এ পরিস্থিতিতে আবদুল্লা তাঁর পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রীর বাবা থানায় ধর্ষণ মামলা করলে পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। আজ সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মেয়েটির বাবা মামলার এজাহারে কয়েকটি তারিখে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। সেই তারিখগুলো আমলে নিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নজরুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বাঘা থানা

পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মেরাজুল ইসলাম বলেন, তাঁর ইউনিয়নে এ ঘটনা জানার পর তিনি মেয়েটির নিরাপত্তার জন্য দুজন গ্রামপুলিশ সদস্যকে সেখানে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। মেয়েটির বাবা বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি এখন থানা-পুলিশের দায়িত্বে রয়েছে।

আবদুল্লা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় তাঁদের কারও বক্তব্য জানা যায়নি। বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির বাবা মামলার এজাহারে কয়েকটি তারিখে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। সেই তারিখগুলো আমলে নিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আর মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন