বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, চন্দ্রশেখর সরকার ও মোবাশ্বির হোসেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে একই সঙ্গে মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর চন্দ্রশেখর সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে এবং মোবাশ্বির হোসেন আশাশুনি ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন। ওই সময় মোবাশ্বিরের সঙ্গে একই গ্রামের এক স্কুলছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েটি ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় এতে বাধা দেন চন্দ্রশেখর। একপর্যায়ে ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে বলেন চন্দ্রশেখর। না হলে বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন তিনি। শোভনালী নকুড়া বিলে মোবাশ্বিরদের একটি মাছের ঘের রয়েছে। ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি থেকে চন্দ্রশেখরকে ডেকে এনে ঘেরের ঘরে দীর্ঘক্ষণ গল্প করেন মোবাশ্বির। একপর্যায়ে রাত ১২টার পর তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘেরের পানির মধ্যে ফেলে লাশ গুমের চেষ্টা করেন মোবাশ্বির। পুলিশ ওই বছরের ১৯ অক্টোবর ওই ঘের থেকে চন্দ্রশেখরের লাশ উদ্ধার করে।

২০ অক্টোবর চন্দ্রশেখরের বাবা বাদী হয়ে কারও নামোল্লেখ না করে ছেলেকে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওই দিন রাতেই মোবাশ্বিরকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন আদালতে পাঠায়। এরপর মোবাশ্বির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের আদালতে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে মোবাশ্বির জামিনে মুক্তি পান। এর কয়েক দিন পর মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিলে বাদী গত বছরের ১২ আগস্ট আশাশুনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। হুমকির প্রাথমিক সত্যতা মেলায় মোবাশ্বিরের জামিন বাতিল করা হয়। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যান তিনি। গত বছরের ৩১ মে মোবাশ্বির হোসেনের নামোল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পলাতক অবস্থায় লিগ্যাল এইডের আইনজীবী আনিছুজ্জামান আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় ১৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। শুনানি শেষে আদালত আজ রায় দেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নিহত চন্দ্রশেখরের বোন সুপর্ণা সরকার বলেন, রায়ে তাঁরা খুশি হতে পারেননি। এ আদেশের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন। একজন স্থায়ী জামিনদারের অনুকূলে আসামি মোবাশ্বিরকে জামিন দেওয়া, এরপর তাঁর পালিয়ে যাওয়া ও আদালত সেই জামিনদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, আসামির বয়স কম হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ রায় যথাযথ হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন