বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন


গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০০ শয্যার এই হাসপাতাল চত্বরে অক্সিজেন প্ল্যান্টের পাশে নির্মিত হয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এই মূল প্ল্যান্ট থেকে হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ লাইন নিয়ে যাওয়া হয়। নিচতলা ও দোতলার পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ১৯৪টি শয্যার পাশের দেয়ালে অক্সিজেন সংযোগ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল, শয্যা থেকে সহজেই করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া যায়। কিন্তু সেই উদ্দেশ্যে গুড়েবালি। শয্যার পাশে অক্সিজেন সংযোগ। কিন্তু ১৯৪টি সংযোগে কেন্দ্রীয় প্ল্যান্টের অক্সিজেন আসে না। কারণ, মূল ট্যাংকে তরল অক্সিজেন সরবরাহ দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় লাইনে সিলিন্ডার লাগিয়ে সাধারণ শ্বাসকষ্টের রোগীদের কোনোমতে সেবা দেওয়া হচ্ছে। করোনায় মুমূর্ষু রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে জেলার সচেতন করোনা রোগীরা পার্শ্ববর্তী রংপুর ও বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে আসা করোনার জটিল রোগীদের রংপুর ও বগুড়ায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। দোতলায় শিশু ওয়ার্ডে খোলা হয়েছে ২০ শয্যার আইসোলেশন কেন্দ্র (করোনা ইউনিট)। নিচতলায় পুরুষ ওয়ার্ডের পাশের কক্ষে শ্বাসকষ্টের রোগী। তাঁদের করোনার নমুনা নিয়ে অপেক্ষমাণ কক্ষে রাখা হয়েছে। রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাঁদের করোনা ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হবে। এই কক্ষে ২৮-৩০ জন শ্বাসকষ্টের রোগী আছেন। ফলে কে সাধারণ রোগী আর কে করোনা রোগী, তা বোঝার উপায় নেই।

গাইবান্ধা শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহীদ আহমেদ বলেন, ‘হাসপাতালের কেন্দ্রীয় প্ল্যান্টে অক্সিজেন না থাকায় মুমূর্ষু রোগীরা রংপুর ও বগুড়ায় ছুটছেন। সময়মতো অক্সিজেন দিতে না পারায় অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। চলতি মাসে মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে আমার ওয়ার্ডে (শহরের ডিবি রোড) একই পরিবারের চারজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের রংপুর ও বগুড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’

এদিকে পূর্ণাঙ্গভাবে হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালুর জন্য নাগরিক সংগঠন গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চ আন্দোলন শুরু করেছে। এই দাবিতে মঞ্চের উদ্যোগে ১১ জুলাই হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন হয়। গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করল, অথচ সেটি তরল অক্সিজেনের অভাবে কাজে লাগছে না। সময়মতো অক্সিজেন দিতে না পারায় গাইবান্ধার অনেক রোগী রংপুর ও বগুড়ায় যেতে যেতেই মারা যাচ্ছেন। তাই জরুরিভাবে তরল অক্সিজেন সরবরাহ ও হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সার্বিক বিষয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় লাইনে অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগিয়ে সাধারণ শ্বাসকষ্টের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। করোনায় জটিল রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে মূল প্ল্যান্টের কেন্দ্রীয় ট্যাংকে তরল অক্সিজেন সরবরাহের জন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি মূল ট্যাংকে অক্সিজেন সরবরাহ করবে। অক্সিজেন সরবরাহ হলে এখানে মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে। তবে এ জন্য হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলাও বরাদ্দ চাওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন