বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনার এ সময় তানিয়ার মতো ২১ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছে পালস-বানি একাডেমি। তাদের থাকা, খাওয়া, পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ—সবকিছু বিনা মূল্যে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ফরাসি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বানি স্ট্রিট একাডেমি ও কক্সবাজারের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পালসের যৌথ উদ্যোগে মানবিক সেবার এ কার্যক্রম শুরু হয়।

কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়ক এলাকায় পালস-বানি একাডেমির খেলার মাঠ। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সাদা পোশাকে একদল ছেলেমেয়ে তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সবার সামনে তানিয়া আকতার ও রিয়া মনি। তারা একে অন্যকে হাত ও পা দিয়ে আঘাত করছে। আর পেছনে দাঁড়িয়ে অন্যশিশুরা তা রপ্ত করছে।

default-image

তানিয়া বলে, ‘সৈকত ও অন্য জায়গায় বখাটে ছেলেরা প্রায়ই মেয়েদের উত্যক্ত করে। মেয়েরা হয়রানির শিকার হয়। আমি নিজেও এ রকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। কিন্তু এখন আত্মরক্ষার কৌশল শিখেছি। এখন একসঙ্গে তিন-চারজন ছেলেকে থামিয়ে দেওয়া কোনো ব্যাপার না।’

একই কথা জানাল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনি। সে বলে, এখন এ ধরনের হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ—দুটোই করার আত্মবিশ্বাস আছে তার। রিয়ার স্বপ্ন পড়াশোনা শেষে প্রকৌশলী হবে। তবে তার আগে স্কুলে গিয়ে মেয়েদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দিতে চায় সে।

এ শিশুরা একসময় সৈকতে শামুক-ঝিনুকের তৈরি পণ্য, চা-বিস্কুট, বাদাম, চানাচুর কিংবা আচার বিক্রি করত। তবে এখন তারা পড়াশোনা শিখে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে।

পালস-বানি একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবু মোর্শেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত ২১ শিশুকে নিয়ে কার্যক্রম চলছে। তারা এখানে পড়াশোনা ও আবাসিক সুবিধার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও আত্মরক্ষার কৌশল শিখছে। কিছুদিনের মধ্যে আরও ২৭ শিশুকে এখানে ভর্তি করা হবে।

প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম বলেন, গত ১ মার্চ থেকে এ প্রকল্প শুরু হয়েছে। শহরের দুর্গম এলাকা থেকে পথশিশুদের খুঁজে বের করে স্কুলে আনা হচ্ছে। লেখাপড়ায় ভালো করলে তাদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্কুলে ভর্তি, পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের বিপরীতে কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন