দিনে কত টাকা রোজগার হয় জানতে চাইলে মনসুর বলেন, ‘হয়, খারাপ হয় না’। এই টাকা কী করেন—জিজ্ঞাসা করলে উত্তর মিলল, ‘দুই ছেলেমেয়েকে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। বাড়িতে বউ আছে। ছেলে এখন একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করে।’

মনসুর ভিক্ষা করে ৩০ বছর আগে একটি তিন ব্যান্ডের রেডিও কিনেছিলেন। সেই রেডিওতে তিনি বাংলায় খবর শুনে থাকেন। সকাল ও রাতে বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, রেডিও তেহরানের বাংলা খবর তাঁর খুব প্রিয়। ‘এই খবর শুনে আপনার লাভ কী’—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সব সময় লাভ খুঁজলে কী চলে? মনের ক্ষুধা আছে না?’

মানুষ মনসুরের কাছে খবর জানতে চাইলে তাঁর উত্তর, সারা পৃথিবীতে খালি যুদ্ধ আর যুদ্ধের খবর। যখন মুঠোফোন ছিল না তখন বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার খবর শোনার জন্য মানুষ মনসুরের কাছে ভিড় করতেন। কথায় কথায় বললেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বাবা মোহাম্মদ আলীর স্বাভাবিক মৃত্যু হলে তাঁর বড় ভাই তাঁকে ট্রেনে ঢাকায় নিয়ে যান। ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে প্রতিদিন ভিক্ষা করতেন মনসুর। সন্ধ্যার পর তাঁর ভাই এসে তাঁকে নিয়ে যেতেন। যুদ্ধ চলার সময় ভিক্ষুকদের পাকিস্তানি সেনারা ধরপাকড় শুরু করেন। তখন তাঁর ভাই তাঁকে রংপুরের রেলস্টেশনে রেখে যান। এরপর একসময় তিনি রংপুর টাউন হল চত্বরে বসবাস করতে থাকেন।

রংপুর শহরে মনসুরকে কমবেশি সবাই চেনেন। তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে। বাবা মোহাম্মদ আলী ও মা সকিনা বেগম বেঁচে নেই। সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মনসুর চতুর্থ। নিজেকে নিয়ে বললেন, ‘আমার কপালোত আছলো পঙ্গু হয়া জন্ম নেওয়া।’