বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বছর অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় ইমরানের অবস্থান ৩৯২৫। তালিকা অনুযায়ী, ইমরান মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেয়েছেন।

ইমরান বলেন, অক্লান্ত পরিশ্রম করে মা–বাবা তাঁকে এত দূরে এনেছেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি নিজেও রাস্তার নির্মাণকাজে ইট ভাঙার কাজ করেছিলেন। তবে এর পর থেকে ইমরানকে আর কাজে যেতে হয়নি।

বাবা–মায়ের সঙ্গে স্কুল–কলেজের শিক্ষকেরা সব সময় ইমরানকে নানাভাবে সাহায্য করেছেন। এর মধ্যে হাসিনুর রহমান নামে এক কোচিং শিক্ষককে বিশেষ ধন্যবাদ জানান ইমরান। তিনি বলেন, ‘হাসিনুর স্যার আমাকে বই-খাতা কিনে দিয়ে সহায়তা করতেন। পুরো স্কুলজীবনেই তিনি সাহায্য করেছেন। ভালোভাবে পড়াশোনা করার জন্য স্যার বিভিন্নভাবে তাগিদ দিতেন। কলেজে গিয়ে ‘গুড্ডি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে উপবৃত্তি পেতাম। এখন মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর সবাই অনেক খুশি হয়েছেন। কিন্তু মেডিকেলে পড়ার খরচের কথা ভাবতে গেলেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়।’

default-image

ইমরানের মা আনজুয়ারা বেগম বলেন, ‘অন্য ১০ জনের মতো আমার ছেলের পেছনে তেমন খরচ করতে পারিনি। এত কষ্টের মধ্যেও সে এত দূর এগিয়ে গেছে, এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। ছেলেকে ডাক্তারি পাস করাতে পারলে আর কোনো চাওয়া নাই। এ জন্য তো অনেক টাকা দরকার হবে। এত টাকা কোথায় পাব, এই চিন্তাই এখন বেশি।’

ইমরানের বাবা আইজদ্দীন বলেন, ভ্যান চালিয়েই তাঁর সংসার চলে। ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে সব সময় তাঁকে হিমশিম খেতে হয়েছে। ছেলেকে চিকিৎসক বানানোর জন্য তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাবেন। তবে সমাজের বিত্তবান কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে তাঁর ছেলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।

২০১৯ সালে স্থানীয় সাকোয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন ইমরান। এরপর ২০২১ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। দুটোতেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।
সাকোয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, ইমরান খুব মেধাবী একটি ছেলে। ওর বাবা অনেক কষ্ট করে ভ্যান চালিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগান। এ রকম প্রত্যন্ত এলাকা থেকে অভাব-অনটনের মধ্যেও ইমরান মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় স্কুলের সবাই খুশি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন