পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদ্দারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইন, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, পাথরঘাটা বিএফডিসি পাইকার সমিতির সভাপতি সাফায়েত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্বাস হোসেন, পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আকন, সাধারণ সম্পাদক শান্ত জামাল, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মান্নান মাঝি ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবী উল কবির জমাদ্দারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ এপ্রিল থেকে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের আওতাধীন ফকিরহাট মৎস্যকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। ফকিরহাটে মাছ বেচাকেনা পুরোপুরি শুরু হয়ে গেলে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে মাছবোঝাই ট্রলার আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। আর মাছ আসা বন্ধ হয়ে গেলে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে কেনাবেচা কমে যাবে। এতে কয়েক কোটি টাকার দাদন দেওয়া পাথরঘাটার আড়তদার ব্যবসায়ীদের লোকসান হবে। তাই অবিলম্বে ফকিরহাট মৎস্যকেন্দ্র বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।

আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদ্দার বলেন, কেন্দ্রে মাছ বেচাকেনার সময় যে হিসাব রাখা হয়, ওই হিসাবের টালিখাতায় গরমিল দেখা গেছে। ওই টালি খাতা ধরেই সরকারি টোল আদায় করা হয়। আর টোল আদায়ের টালিখাতার সঙ্গে আড়তদারদের টালিখাতার মিল নেই। পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আড়তদারদের টোল বাড়িয়ে লিখেছেন। তাই তাঁরা ব্যবস্থাপকেরও অপসারণ চান।

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট এম লুৎফর রহমান বলেন, পাথরঘাটায় আড়তদার সমিতির ৩৮ জন সদস্যের কাছে টোল বাবদ শতকরা ১ টাকা ২৫ পয়সা হিসাবে ৫৪ লাখ ৭ হাজার টাকা বকেয়া। তাঁদের মধ্যে শুধু সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদ্দারের কাছেই টোল বকেয়া ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। জাহাঙ্গীর জমাদ্দারসহ সমিতির সদস্যদের টোলের বকেয়া টাকা পরিশোধের তাগিদ দেওয়ায় তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন।

পাথরঘাটার ইউএনও হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, ফকিরহাট মৎস্য উপকেন্দ্রটি সরকারের উন্নয়নের একটি অংশ। ওই এলাকার মৎস্যজীবীদের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাথরঘাটা বিএফডিসিতে সরকারি টোল অনাদায়ি থাকলে আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন