মোস্তফা একই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদের ছেলে। নিহত ও আহত ব্যক্তিরা মোস্তফা জামান সিদ্দিকী পক্ষের লোক বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন জোহরের নামাজ শেষ করে স্থানীয় গোহাইলবাড়ী বাজারে মোস্তফা জামান সিদ্দিকীর দোকানে বসা ছিলেন তাঁর সমর্থকেরা। বেলা ২টার দিকে আরিফ খালাসির ১০/১২ জন সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এ সময় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সাতজনকে জখম করা হয়।

আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকিদুল মোল্লাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত খায়রুল শেখকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

আহত মাছুদ আহম্মেদ (৪০) ও আলমগীর আহম্মেদকে (৫০) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ভাড়ালিয়ার চর এলাকার মো. রাজিবুল ইসলাম (৩০), কাদের মোল্লা (৪০) ও সোহেল মোল্লাকে (২০) বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে জানার জন্য মোস্তফা জামান সিদ্দিকী ও আরিফ খালাসির মুঠোফোনে কল করা হলে তাঁদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন বলেন, মোস্তফার পরিবার একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। তাঁদের সঙ্গে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফ খালাসির পরিবারকে বিরোধ চলে আসছিল প্রায় ১০ বছর ধরে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে মোস্তাফা জিতে যাওয়ায় এই বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। এরই জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) সুমন কর বলেন, যাঁরা আহত বা নিহত হয়েছেন তাঁরা একই দলভুক্ত। তাঁরা একটি দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় প্রতিপক্ষের ১০/১২ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। এতে দুজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন