বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে কাইচাইল মাঝিকান্দা এলাকায় কয়েকজন সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করছিলেন কবির হোসেন। এ সময় নৌকা প্রার্থীর সমর্থনে ৪০–৫০ জনের একটি লাঠিমিছিল কবিরসহ তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী কবির হোসেন গুরুতর আহত হন।

কবিরের স্ত্রী তাহেরুন্নেসা বলেন, ঘটনার সময় তাঁর স্বামী কয়েকজন সমর্থক নিয়ে প্রচারণা করছিলেন। ওই সময় আওয়ামী লীগের সমর্থক মাঝিকান্দা গ্রামের রিজাউল করিমের (৪৮) নেতৃত্বে ৫০–৬০ জন ব্যক্তি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাঁর স্বামী ও সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করে। পরে আহত কবির প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে তিনি ওই অবস্থায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।

কবির বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদের উপনেতা ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের সাংসদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী বিভিন্ন উত্তেজনাপূর্ণ কথা বলায় এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর পর থেকেই ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকেরা বেপরোয়া হয়ে লগি–বৈঠা ব্যবহার শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর নগরকান্দার চরযশোরদী ইউনিয়নের আশফরদী গ্রামে নির্বাচনী সভায় সাংসদ শাহদাব আকবর বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘আপনারা আগামী ১১ নভেম্বরের জন্য প্রস্তুত হন। কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করার সুযোগ দেব না। যার যার লাঠি প্রস্তুত করেন। যদি ভালো কথায় কাজ না হয়, লাঠিতে কাজ হবে।’

এ ব্যাপারে দুই দফা শাহদাব আকবরকে ফোন দিয়েও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে কথা হয় সাজেদা চৌধুরীর এপিএস মো. শফিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে। মো. শফিউদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এসব কথা ভিত্তিহীন। মামা (শাহদাব আকবর) শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যাতে নির্বাচন হয়, সে বিষয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মামা কাউকে সংঘাতে যেতে বলেননি।

এদিকে ওই একই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের উদ্যোগে নির্মিত দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রতিকৃতি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম মোস্তফা খান বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং কাইচাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন মিয়ার সমর্থকেরা রাতের যেকোনো সময় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কবির হোসেন বলেন, নৌকা পোড়াবে, এমন কেউ নেই। বরং এলাকায় সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনূর রহমান বলেন, ‘নৌকা পোড়ানো ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। কাইচাইলে গতকাল সকাল থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন