বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শাহজাহান মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, জলাধারে তাঁর বেশ কিছু হাঁস চড়ে বেড়াচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে তিনি দেখতে পান, কুমিরটি হাঁসগুলোকে ধরার জন্য ধাওয়া করছে। এরপর তিনি এলাকার আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কুমিরটি পালিয়ে জলাধারের একটি অগভীর অংশে চলে যায়। এরপর এলাকাবাসী জাল ফেলে কুমিরটি আটকে ফেলেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে কুমিরটি জালে করে টেনে নিয়ে পাড়ে উঠিয়ে রাখা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কুমিরটির আনুমানিক দৈর্ঘ্য সাড়ে ৭ ফুট এবং ওজন প্রায় ৮০ কেজি। ফরিদপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারি বলেন, কুমিরটি জনতার হাতে আটক হওয়ার খবরটি তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি বন্য প্রাণী সম্প্রসারণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কুমিরটির ব্যাপারে বন্য প্রাণী সম্প্রসারণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগই দায়িত্ব পালন করবে। তবে এ ব্যাপারে তাঁরা কোনো সাহায্য চাইলে ফরিদপুর বন বিভাগ সাহায্য করবে।

বন্য প্রাণী সম্প্রসারণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, কুমিরটি নিয়ে আসার জন্য ১০ সদস্যের একটি দল ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। কুমিরটি মিঠাপানির এবং বিরল প্রজাতির। এটি গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে রাখার হবে বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ২৪ জুলাই সকালে ওই জলাধারে একটি কুমির দেখতে পান ওই এলাকার বাসিন্দারা। এরপর ওই এলাকায় মাইকিং করে ওই জলাধারে না নামার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ওই জলাধারের পাড়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানানো হয়। জলাধারটি এলাকাবাসীর কাছে ফালুর খাল হিসেবে পরিচিত।

কুমিরটি উদ্ধারের জন্য গত ২৮ ও ৩০ জুলাই বন্য প্রাণী সম্প্রসারণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা অঞ্চলের উদ্যোগে দুই দফা অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু প্রথম দফায় জাল ছোট থাকায় এবং দ্বিতীয়বার কুমিরটি জালে আটকা পড়লেও জাল ছিঁড়ে বের হওয়ায় সেটি আর ধরা সম্ভব হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন