default-image

ফরিদপুরে পাওনা টাকা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে এক পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্য পক্ষের চারজন। গত মঙ্গলবার রাতে সদরপুর সদর ইউনিয়নের চর ব্রাহ্মন্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার রাতে সদরপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর ইউনিয়নের চর ব্রাহ্মন্দী গ্রামে গোপাল দাস ও প্রতিবেশী সুশান্ত কর্মকারের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সুশান্ত কর্মকার গোপালের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ধার নেন এক বছর আগে। এ টাকা ফেরত না দেওয়ায় তিন মাস ধরে ওই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এ বিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মন্দী বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সুশান্ত কর্মকার, তাঁর স্ত্রী ও দুই ভাই আহত হন। এরপর রাত ১১টার দিকে গোপাল দাস (৩৫), তাঁর ভাই বাপন দাস (২৮) ও ভাতিজা তপন দাসের (৩০) ওপর তরল দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করেন। সুশান্ত কর্মকারের পরিবারের চার সদস্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিজ্ঞাপন

গোপাল দাসের মা বাসনা দাস দাবি করেন, সুশান্তের এক ভাতিজা অ্যাসিড ছুড়ে তাঁর দুই ছেলে ও এক নাতিকে ঝলসে দিয়েছেন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রতন কুমার সাহা জানান, মঙ্গলবার রাতে একই পরিবারের তিনজন ‘ক্যামিকেল বার্ন’ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। দুজনের চোখও দগ্ধ ছিল।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম তুহিন আলী প্রথম আলোকে জানান, এ ঘটনায় গোপাল দাসের চাচা পরিমল দাস অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে রাতে থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে আজ রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের সদরপুর থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

মন্তব্য পড়ুন 0