default-image

দিগন্তজুড়ে পেঁয়াজের খেত। দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজেরই চাষাবাদ করা হয় এই মাঠে। তবে এবারের মৌসুমে পেঁয়াজখেতের মাঝখানের একটি জমিতে অন্য ফসল। ওই খেত নজর কাড়ছে সবার। সেখানে স্কোয়াশ চাষ করেছেন কৃষক মিরান হোসেন (৫৯)। নতুন এই ফসল চাষ করে তাঁর ভালোই লাভ হচ্ছে।

মিরান হোসেনের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ছাগলদী গ্রামে। তিনি গ্রামেরই একজনের কাছ থেকে ৩৬ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে ১৫ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন। আরও ২৫ হাজার টাকা আয় করবেন বলে তিনি আশা করছেন। খরচ বাদ দিয়ে চার মাসে তাঁর লাভ হবে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। স্কোয়াশের পাশাপাশি ওই জমিতে তিনি লেটুসপাতা, ব্রকলি, বিট ও তরমুজ চাষ করেছেন।

উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের নগরকান্দা-ছাগলদী আঞ্চলিক সড়কের পাশে মিরান হোসেনের খেত। গত ২৯ জানুয়ারি বিকেলে সেখানে মিরান হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ২০১৬ সালে তিনি গোপালগঞ্জ সদরের একটি গ্রামে ব্রকলি চাষ দেখেন। তখন থেকে ভিন্ন রকম ফসল চাষের চিন্তা তাঁর মাথায় আসে। ২০১৭ সালে ইউটিউবে কালো স্কোয়াশ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। ওই বছর বাড়ির পাশের পতিত প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক স্কোয়াশ চাষ করেন। এবার বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে চর ছাগলদী গ্রামে জমি ইজারা নিয়ে স্কোয়াশ চাষ করেছেন।

বিজ্ঞাপন
স্কোয়াশের আদি নিবাস পানামা-মেক্সিকোতে। এটি একধরনের কুমড়া। লাতিন নাম কুকুরবিট। এটা সবজি ও সালাদ হিসেবে খাওয়া হয়। এ সবজিতে খনিজ উপাদানের পরিমাণ বেশি। পাশাপাশি আছে শর্করা ও আমিষ।

মিরান হোসেন বলেন, স্কোয়াশ সাধারণত দুই রঙের হয়। সবুজ ও হলুদ। গত নভেম্বরের শুরুতে এ জমিতে স্কোয়াশের বীজ রোপণ করা হয়। জানুয়ারি থেকেই গাছে সবজি ধরতে শুরু করে। মধ্য জানুয়ারি থেকে সবজি বিক্রয়ের উপযোগী হয়ে ওঠে। শুরুতে একটি স্কোয়াশ বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা করে। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা কেজি দরে। ১৩টি বেডে সারি করে লাগানো হয়েছে ৬০০টি গাছ। প্রতিটি গাছে স্কোয়াশ ধরেছে পাঁচ-সাতটি করে। নতুন নতুন ফুলও এসেছে। কোনো কোনো গাছে ২০ থেকে ২৫টি স্কোয়াশ ধরেছে। শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে পানি দেওয়া হয় খেতে। প্রতি বেডে মালচিং পেপার ব্যবহার করায় পরিচর্যা ও সার কম লাগে।

এলাকায় মিরান হোসেন প্রথম স্কোয়াশ চাষ করেছেন। তাঁর এই ফসল নিয়ে অনেকের বেশ আগ্রহ রয়েছে। অনেকেই তাঁর খেত দেখতে আসেন, ছবিও তোলেন। মিরান হোসেন বলেন, ‘এটা মূলত পেঁয়াজের জমি। আশপাশে সবাই পেঁয়াজ চাষ করেন। আমি চাই, আগামী প্রজন্ম পেঁয়াজ ছাড়াও নতুন ফসল চিনে নিক। আমার দেখাদেখি অনেকেই আগামী বছর স্কোয়াশ চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। নগরকান্দায় এটা আমি ছড়িয়ে দিতে পারছি। এটাই আমার সফলতা।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ফরিদপুরে স্কোয়াশ চাষ হয়েছিল তিন হেক্টর জমিতে। পরের অর্থবছরে চাষ হয়েছে ১১ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৫ হাজার কেজি স্কোয়াশ উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি গড়ে ২০ টাকায় বিক্রি করা হলে প্রতি হেক্টর জমি থেকে তিন লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক বলেন, স্কোয়াশের আদি নিবাস পানামা-মেক্সিকোতে। এটি একধরনের কুমড়া। লাতিন নাম কুকুরবিট। এটা সবজি ও সালাদ হিসেবে খাওয়া হয়। এ সবজিতে খনিজ উপাদানের পরিমাণ বেশি। পাশাপাশি আছে শর্করা ও আমিষ। জেলায় দিনে দিনে স্কোয়াশের চাষ বাড়ছে। চাষ পদ্ধতির কারণে এটি বিষমুক্ত সবজি। তাই এটি সমাদৃত হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন