নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষার্থীরা বলেন, মেসগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীরা থাকেন। এই শিক্ষার্থীরা সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সরকারি ইয়াছিন কলেজ, প্রকৌশল কলেজ, কৃষি কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন।

মেসের কয়েক ছাত্র প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতা পরিচয় দিয়ে গতকাল বুধবার রাতে তাঁদের এসে সম্মেলনে যাওয়ার ব্যাপারে জানানো হয়। এ সময় তাঁদের মধ্যে অনেকে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় ও বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়। ফলে আজ তাঁরা ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্মেলনে যাচ্ছেন।

default-image

আজ সকাল সাতটার দিকে শহরের চর কমলাপুর, পূর্ব খাবাসপুর, বায়তুল আমান, আলীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মেসের ছাত্রদের সম্মেলনে যেতে দেখা যায়। এর মধ্যে কয়েক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের সম্মেলনে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। গতকাল রাতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁদের সম্মেলনে যাওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে। আজ সকালেও ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা পরিচয়ধারীরা তাঁদের সম্মেলনে যাওয়ার জন্য ডাক দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সকাল সাতটার দিকে একটানা একাধিকবার তাঁদের মেসের কলবেল বাজানো হয়। দরজায় জোরে জোরে কয়েক যুবক ধাক্কাধাক্কি করেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ভেতরে ঢুকেই ওই যুবকেরা বলেন, ‘সবাই ওঠো, মিছিলে যেতে হবে।’ ছাত্রদের কেউ কেউ গড়িমসি করলে ওই যুবকেরা বলেন, তিনি ওয়ার্ড ছাত্রলীগের অমুক।

ওই যুবকেরা স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী, কোচিংশিক্ষক ও চাকরিজীবীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন বলে কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আতঙ্কে থাকি। এর থেকে পরিত্রাণ চাই। আমরা এখানে পড়তে এসেছি, রাজনীতি করতে আসিনি।’

অভিযোগের বিষয়ের জানতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেগম ঝর্ণা হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। মূলত দলের পদধারী নেতারা সবাই সম্মেলনস্থলে থাকায় কোনো নেতার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই কাজ ছাত্রলীগ করেনি। যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেছে। অথচ দোষ পড়েছে ছাত্রলীগের। ছাত্রলীগের কোনো নেতা এ জাতীয় ঘটনা ঘটিয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ফরিদপুরে প্রায় ৩ বছর ধরে মেসের ছাত্রদের রাজনৈতিক সমাবেশে আনার রীতি বন্ধ ছিল। ২০১৮ সালের শেষ দিকে ফরিদপুরের রাজনীতিতে ‘শুদ্ধি অভিযানের’ পর থেকেই এ রীতি বন্ধ হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আবারও সেই রীতি দেখা গেল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন