বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রসুলপুর বাজারের কার্যালয়ে বসে কামাল তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। এ সময় সংসদ উপনেতার এপিএস মো. শফিউদ্দিন চৌধুরী, তালমা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ খান এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী রণজিৎ মণ্ডলের নেতৃত্বে কয়েক শ লোক মিছিল করে ওই নির্বাচনী কার্যালয়ের দিকে এগোতে থাকেন। এ সময় আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে কামালের নির্বাচনী কার্যালয়ে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা ওই কার্যালয়ে হামলা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংসদ উপনেতার এপিএস শফি ৪০০ থেকে ৫০০ লোক নিয়ে আমাদের অফিসে হামলা চালান। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রণজিৎ মণ্ডল ও সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ খানও ছিলেন। পুলিশ ঠেকাইয়া সারতে পারে নাই। আমাদের ৮-১০ জন মানুষকে হাত-পা ভাইঙ্গা দিছে।
কামাল হোসেন মিয়া, তালমা ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনূর রহমান বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মিছিল থেকে হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পুলিশ লাঠিপেটা ও শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তালমা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রসুলপুর বাজারের নির্বাচনী ক্যাম্পে ছিলাম। সংসদ উপনেতার এপিএস শফি ৪০০ থেকে ৫০০ লোক নিয়ে আমাদের অফিসে হামলা চালান। তাঁরা মিছিল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেছেন। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রণজিৎ মণ্ডল ও সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ খানও ছিলেন। পুলিশ উপস্থিত ছিল। তবে পুলিশ ঠেকাইয়া সারতে পারে নাই। আমাদের ৮-১০ জন মানুষকে হাত-পা ভাইঙ্গা দিছে।’

default-image

এ ব্যাপারে এপিএস শফিউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে কখনো সেটি কয়েকবার বন্ধ, আবার কখনো ব্যস্ত পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রণজিৎ মণ্ডল দাবি করেন, আওয়ামী লীগের একটি মিছিল রসুলপুর বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় পুলিশ আওয়ামী লীগের কর্মীদের লাঠিপেটা করে ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

জানতে চাইলে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সাহাদাব আকবর চৌধুরী জানান, তিনি ওই সময় সালথার মাঝারদিয়া এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে ছিলেন। তালমার রসুলপুরে কী ঘটেছে তা তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, মো. শফিউদ্দিন চৌধুরী সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর এপিএস। এমন সম্মানিত পদে থেকে তাঁর পক্ষে হামলা চালানো সম্ভব নয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন