default-image

ফরিদপুরে সেফ হোম থেকে চারজন নয়, পালিয়েছেন সাত তরুণী-কিশোরী। সেফ হোমের উপতত্ত্বাবধায়ক রুমানা আক্তার আজ শনিবার প্রথম আলোকে এই তথ্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম দফা গণনায় ভুল হয়েছিল। পরে রাতে আবার গুনে দেখা যায়, মোট নিবাসী ৭২ জনের মধ্যে সাতজন পালিয়ে গেছেন।

এর মধ্যে আজ শনিবার সকালে এক তরুণীকে শহরের বিল মাহমুদপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া পলাতক আরেক তরুণীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে সেই স্থানে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় সেফ হোমের কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে ১৪ জনকে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এই সেফ হোমের নাম ‘মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র’। সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত এই সেফ হোম ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা মহল্লার এলাকায় সোহরাওয়ার্দী লেকপাড়ের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। ১৯৯৯ সালে শহরের টেপাখোলা এলাকার জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়সংলগ্ন এক একর জমির ওপর স্থাপিত ‘শান্তি নিবাস’ নামের বৃদ্ধা নিবাসটিকে ২০০৬ সালে রূপান্তর করা হয় সেফ হোম হিসেবে।

নিবাসীদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই সেফ হোমে কর্মরত ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৩ আনসার সদস্যসহ মোট ১৪ জনকে শোকজ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

সেফ হোম সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে মোট ৭২ জন নিবাসী ছিলেন। এর মধ্য থেকে সাতজন গত শুক্রবার ভোর চারটার দিকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্য সালমা বেগম (২৬) ও বিউটি আক্তারের (২৭) ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে গ্রিল ভেঙে পাচিল টপকে পালিয়ে যান।

পালিয়ে যাওয়া ওই সাতজন হলেন রাজবাড়ীর এক তরুণী (২১), রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের এক তরুণী (২০), রাজবাড়ীর এক কিশোরী (১৪), গোপালগঞ্জের এক তরুণী (১৮) ও এক কিশোরী (১৬), শরীয়তপুরের এক কিশোরী (১৭) ও মাদারীপুরের এক তরুণী (২০)।

সীমানাপ্রাচীর কমপক্ষে ১৮ ফুট উঁচু হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া ভেতরের গ্রিলগুলো মোটা ও মজবুত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশ বা আনসার সদস্যদের দিয়ে না করিয়ে কারারক্ষীর মতো সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী থাকা প্রয়োজন।
মো. আলী আহসান, উপপরিচালক, ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তর

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সেফ হোম থেকে জানানো হয়, তাদের চারজন নিবাসী কর্মরত আনসারদের ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগে গ্রিল ভেঙে পাচিল টপকে পালিয়ে গেছেন। আজ শনিবার সেফ হোম থেকে বলা হয়, চারজন নয়, পালিয়েছেন মোট সাতজন। প্রথম দফা গণনায় ভুল হয়েছিল। তাঁরা সবাই কিশোরী বয়সে ভবঘুরে হিসেবে উল্লিখিত জেলা ও উপজেলায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে আদালতের মাধ্যমে এ সেফ হোমে আসেন। তাঁদের মধ্যে গোয়ালন্দ থেকে আসা তরুণী এখানে ২০১৫ সাল থেকে ছিলেন। বাকিরাও তিন কিংবা চার বছর ধরে ছিলেন। তাঁদের আইনগত অভিভাবক না পাওয়ায় আদালত তাঁদের সেফ হোমে প্রেরণ করেন।

সেফ হোমের উপতত্ত্বাবধায়ক রুমানা আক্তার বলেন, এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া নিবাসীদের সন্ধানে পুলিশের পাশাপাশি সেফ হোম কর্তৃপক্ষও কাজ করছে।

ফরিদপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুনীল কুমার কর্মকার বলেন, পালিয়ে যাওয়া ওই সাত তরুণীর মধ্যে একজনকে শনিবার সকালে শহরের বিল মাহমুদপুর এলাকা থেকে পুলিশ আটক করেছে। এ ছাড়া আরেক তরুণীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে সেই অবস্থানে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আজ সেফ হোমে সরেজমিনে দেখা যায়, ছয় ফুট উঁচু একটি সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ভেতরে একতলা সেমিপাকা ভবনে নিবাসীদের রাখা হয়। তবে সামনে একটি বড় গেট রয়েছে। ওই গেটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন পুরুষ পুলিশ সদস্যরা। আর সেফ হোমের ভেতরে কাজ করেন নারী আনসার সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আলী আহসান বলেন, সমাজসেবা পরিচালিত এসব কেন্দ্র সুরক্ষিত করা প্রয়োজন। সীমানাপ্রাচীর কমপক্ষে ১৮ ফুট উঁচু হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া ভেতরের গ্রিলগুলো মোটা ও মজবুত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশ বা আনসার সদস্যদের দিয়ে না করিয়ে কারারক্ষীর মতো সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী থাকা প্রয়োজন।

উপপরিচালক মো. আলী আহসান আরও বলেন, নিবাসীদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই সেফ হোমে কর্মরত ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৩ আনসার সদস্যসহ মোট ১৪ জনকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য সহকারী উপপরিচালক আবু সাইদুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন সহকারী উপপরিচালক নূরুল হুদা ও তাসফিয়া তাসরিণ। আগামী তিন দিনের মধ্যে শোকজের জবাব ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন