মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাসেলের স্ত্রী হিরা বেগম ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স ইলা সিকদারকে সিরিঞ্জে রক্ত টেনে দিতে বলেন রাসেল। এ সময় ইলার সঙ্গে রাসেলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর দেবাশীষ নয়ন ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দু-তিনজন ওয়ার্ডের মধ্যে ঢুকে রাসেলের বুকে ছুরিকাঘাত করে চলে যান। দেবাশীষসহ ওই যুবকদের ইলা সিকদার ডেকে এনেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ জলিল বলেন, হাসপাতালে ঢুকে রোগীর স্বামীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
ঘটনার পর থেকে দেবাশীষ গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আহত রাসেল বর্তমানে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ দুপুরে তাঁর অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা আছে। অস্ত্রোপচারের পর রাসেলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানতে চাইলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ছিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট আবু আহমেদ আবদুল্লাকে এ কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ মো. বদরুদ্দোজাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন সদরের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও গণেশ কুমার আগরওয়ালা এবং উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক মর্জিনা বেগম।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন