সালথার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের খালিশপুট্টি গ্রামের তরুণ পেঁয়াজচাষি মো. রনি বলেন, ‘আমার তিন বিঘা জমির পেঁয়াজ উৎপাদনে মোট খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। পেঁয়াজ রোপণের পর থেকে শুরু করে সার, সেচ, আগাছা নিড়ানো ও সর্বশেষ পেঁয়াজ বাড়িতে আনতে দিনমজুরের ওপরই আমাকে নির্ভর করতে হয়েছে। ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দিনভিত্তিক মজুরি দিতে হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে বিঘাপ্রতি ১২ হাজার টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের এলাকায় বছরে দুটি ফসল হয়, পেঁয়াজ ও পাট। পেঁয়াজ ফলিয়ে যদি লাভ না পাই, তাহলে পাট চাষের টাকা আসবে কোথা থেকে কিংবা আমরা খাবই বা কী।’

কৃষকেরা হিসাব দেখিয়ে বলছেন, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে মণপ্রতি দাম পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা করে। এক বিঘা জমিতে যদি ৬৫ মণ পেঁয়াজও উৎপাদন হয়, তাহলে টাকা ওঠে ৫২ হাজার। বর্তমান বাজার অনুযায়ী সে হিসাবে বিঘাপ্রতি ক্ষতি গুনতে হচ্ছে ৮ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায়। বিশেষ করে সালথা উপজেলার কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল এই পেঁয়াজ। এই মৌসুমের উৎপাদিত পেঁয়াজই এ অঞ্চলের মানুষের সারা বছরের জীবিকার জোগান দেয়। জেলায় এ বছর মোট ৪০ হাজার ৭৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ করা হয়েছিল মোট ৪০ হাজার ৯৭ হেক্টর জমিতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হজরত আলী বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফরিদপুরে পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। জেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার ৩৬০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় ১৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে কিছু জমিতে পানি জমে থাকায় সেখানে পেঁয়াজ চাষ করা সম্ভব হয়নি। সে জন্য তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন