বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাট চাষে লাভ হওয়ায় এবার খোরশেদ আলমের মতো হাসি ফুটেছে যশোরের পাটচাষিদের মুখে। পাটের ভালো ফলন ও বাজারে দর ভালো পাওয়ায় খুশি জেলার পাটচাষিরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাট মূলত বৃষ্টিনির্ভর ফসল। মৌসুমের শুরুতে এবার বৃষ্টি হয়নি। পরে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হয়েছে। খেতে সেচও দিতে হয়েছে। তবে পাটগাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। পাট কাটার সময় বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে কিছুটা দূরে নিয়ে জলাশয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে পরিবহন-ব্যয় বাড়ছে। সব মিলিয়ে এবার পাট চাষে খরচ বেশি হয়েছে। তবে বাজারে এবার পাটের দাম ভালো। জেলার বাজারে পাটের মান ভেদে ২ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে।

যশোরের শার্শা, মনিরামপুর ও বাঘারপাড়া উপজেলায় কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাটচাষিরা খেত থেকে পাট কাটা, কাটা পাট পরিবহন করে জলাশয়ে নেওয়া এবং জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। অনেকে আবার কৃষিশ্রমিক ও নারীদের দিয়ে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন। উঁচু জায়গা, সড়ক, সেতুর ওপর, আবার কোথাও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা মাচার ওপর মেলে পাট শুকানো হচ্ছে। শুকনো পাট গাঁট বেঁধে রাখা হচ্ছে।

মনিরামপুর উপজেলার লাউড়ী গ্রামের পাটচাষি নজরুল মোল্যা এবার দুই বিঘা (৪৮ শতকের বিঘা) জমিতে পাটের আবাদ করে ৩৮ মণ পাট পেয়েছেন। তিনি ২ হাজার ৮৫০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করেছেন। খেত থেকে তিনি পেয়েছেন প্রায় ৮০০ আঁটি পাটকাঠি। ওই পাটকাঠি তিনি বিক্রি করছেন ২০ টাকা আঁটি দরে। তিনি বলেন, ‘এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো। সব খরচ বাদে এবার আমার লাভ হবে।’

বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের পাটচাষি মন্টু ‍মিয়া বলেন, ‘আট কাঠা জমিতে ১৬ মণ পাট হয়েছে। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে সাত হাজার টাকা। বাজারে তিন হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। পাটকাঠির দামও ভালো। আমার প্রায় চার হাজার টাকার পাটকাঠি বিক্রি হবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পাট মৌসুমে এবার আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। মৌসুমের প্রথম দিকে খরা থাকলেও পরের দিকে মাঝেমধ্যে প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ পাট হচ্ছে। এবার পাটের দামও ভালো।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন