জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে জেলায় ৪৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার ফলন হয় ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন। পরের বছর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভুট্টার আবাদ। জেলায় সবচেয়ে বেশি ভুট্টার আবাদ হয় বীরগঞ্জ, কাহারোল, বিরল ও সদর উপজেলায়। সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন।

গত মঙ্গল ও বুধবার বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর ও সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশালাকার মাঠজুড়ে বিস্তীর্ণ ভুট্টার খেত। সাধারণত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভুট্টার বীজ বপন করা হয়। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকেই উত্তোলন শুরু হয়। কিছু কিছু খেতে গাছের আগা ও পাতা ছেঁটে ফেলা হয়েছে, যেন ফলের গায়ে রোদের তাপ লাগতে পারে। অধিকাংশ খেতে গাছ থেকে ভুট্টার মোচা তোলা ও সংগ্রহকাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। বস্তাবন্দী হওয়ার পর তোলা হচ্ছে ট্রাক্টরে।

গত বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার বেলবাড়ি এলাকায় কথা হয় কৃষক পান্ডু টুডুর সঙ্গে। তিনি এবার এক বিঘা জমিতে পাইওনিয়ার-৩৩৫৫ জাতের ভুট্টা আবাদ করেছেন। পান্ডু টুডু জানান, এক বিঘা জমিতে চাষ ও মজুরি বাবদ সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১৫ হাজার ২৫০ টাকা। ভুট্টা পেয়েছেন ৬৮ মণ। কাঁচাতে বিক্রি করেছেন প্রতি মণ ৯০০ টাকা দরে। লাভ হয়েছে ৪৫ হাজার টাকার বেশি।

শিল্প ও বণিক সমিতির পরিচালক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভুট্টার আবাদ। গত চার বছরে জেলা শহরে গড়ে ওঠা পাঁচটি ফিড মিলে চাহিদা বেড়েছে ভুট্টার। ফলে চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা ভুট্টার আবাদে ঝুঁকছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, সাধারণত নদীর ধারে পলিমিশ্রিত ঢালু জমি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। দীর্ঘদিন যে জমিগুলো অনাবাদি থাকত, কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে সেসব জমিকেও চাষাবাদের আওতায় আনছেন তাঁরা। তা ছাড়া ভুট্টার আবাদ বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার ২০ হাজার কৃষককে ২ কেজি করে ভুট্টার বীজ ও ২০ কেজি সার সরবরাহ করা হয়েছে।

কেনাবেচায় মৌসুমি ব্যবসায়ী

ফসল উত্তোলন ও মাড়াইয়ের পরে ভুট্টা নিয়ে কৃষককে এখন আর হাটবাজারে যেতে হয় না। কেনাবেচায় যুক্ত হয়েছেন কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী। স্থানীয় তরুণেরা খেতের পাশেই নেট দিয়ে চাতাল তৈরি করেছেন। মেশিনে ভুট্টা মাড়াই করে সেই চাতালে চলছে ভুট্টা শুকানোর কাজ।

বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ি এলাকার ভুট্টাচাষি সোলায়মান আলী বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। পাশাপাশি ভুট্টা কিনে মিলে বিক্রি করছেন। তাঁরা খেতে গিয়ে কৃষকের সঙ্গে দর-কষাকষি করে আগাম টাকা দিয়ে আসেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন