বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ জনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চর বিশ্বাস ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মিলন খলিফা ও হান্নান মিয়া সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আহত বাহাদুর মাতব্বর (৩৫), শাহজাহান মাতব্বর (৪২), তন্নি আক্তার (৩০), অনু বেগম (২০) ও জামাল ফরাজীকে (৩০)  গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে গজালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী কলিম খান ও কামালের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মঞ্জু জোমাদ্দার (৩৪), বাবুল হাওলাদার (৪৫), খায়রুল (২২), বাপ্পী (১৮) ও মাসুদা বেগমকে (৪৫) গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একই রাতে কলাগাছিয়া ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী নান্নু মৃধা ও ফারুক সরদারের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হন। তাঁরা হলেন সজীব (২৫), জাহেদা বেগম (৪০) ও ছালমা বেগম (২৫)।  তাঁদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী কামাল গাজী ও মঞ্জু হাওলাদার সমর্থকদের সংঘর্ষে কামরুল মাতব্বর (৪৫), মিশন (২৩), মুনসুর (২৩), সুমন (২৪), শাহা প্যাদা (৪০), ফাতেমা বেগম (২৬) ও দুদা মৃধা (৩৫) আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম পাঁচজনতে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ও দুদা মৃধাকে (৩৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গলাচিপার চরকাজল ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমানের সমর্থকেরা পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. সাইদুর রহমান ওফে রুবেল মোল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, কমপক্ষে দেড় শ লোক রামদা, বগিদা, লেজা, সুরকি নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। আধা ঘণ্টা ধরে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এই হামলার ইটের আঘাতে তাঁর চাচাতো বোন রুমানা বেগম (২১) আহত হন।

বৃহস্পতিবার ভোটগণনা ও ফলাফল প্রকাশের পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পানপট্টি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ফিরে আসার সময়  পরাজিত সদস্য প্রার্থীদের বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা হামলা চালিয়ে আটটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ছিনিয়ে নেয়। এ সময় হামলাকারীরা কেন্দ্রে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ শটগান দিয়ে  ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ সদস্যরা রাতে অভিযান চালিয়ে ওই বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে পাঁচটি ইভিএম মেশিন ও পরে পাশের একটি ফাঁকা মাঠ থেকে তিনটি  ইভিএম মেশিন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম জানান,  নির্বাচনে হেরে যাওয়া সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে এই কাজ করেছে। পুলিশ শটগান দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কয়েকটি স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন