default-image

ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নে চরভেদুরিয়ায় ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেখান থেকে প্রায় আড়াই একর জমির ওপরের মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হয়েছে।

জমির মালিকেরা বলছেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পাশের পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের রিয়াদ ব্রিকসের অবস্থান। ওই ভাটার মালিক জোর করে এখান থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন। তবে ভাটার মালিক জহিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি টাকা দিয়ে মাটি কিনেছেন।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুয়ায়ী, ইটভাটায় ফসলি জমির ওপরের অংশের মাটি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে প্রথমবারের জন্য দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। পরে শাস্তি আরও বাড়বে। এই আইন লঙ্ঘন করেই রিয়াদ ব্রিকসে ফসলি জমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, ভোলার চরভেদুরিয়া ও বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জের আলীমাবাদ ইউনিয়নের গাগুরিয়া (৮ নম্বর ওয়ার্ড) সীমানার বিলে বোরো ধান ও সবজির খেত। কৃষকেরা খেত থেকে ধান কাটছেন। পাশে এক্সকাভেটর যন্ত্র দিয়ে জমির মাটি কেটে ট্রাক্টরে তোলা হচ্ছে। মাটির কাটার ছবি তুলতে গেলে এক্সকাভেটরের চালক দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।

সেখান প্রায় আড়াই একর জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক একর জমিতে জমিতে প্রায় ৮-৯ ফুট গর্ত করা হয়েছে। বাকি জমিতে গর্তের গভীরতা ৩-৪ ফুট।

স্থানীয় বাসিন্দা জমির মালিক হালিমা খাতুন বলেন, তিনি ২০১০ সালে এখানে ৭২ শতাংশ জমি কেনেন। এই জমিতে তাঁর ছেলেরা কৃষিকাজ করেন। জমিতে এখনো কুমড়াগাছ রয়েছে। সেই জমির মাটি জোর করে নিচ্ছেন ইটভাটার মালিক জহিরুল ইসলাম। সেখানে তোফাজ্জল হোসেনের ৪৮ শতাংশ ও মো. সবুজের ৪০ শতাংশ জমি রয়েছে। তাঁরা দুজন একইভাবে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাটি কাটার অভিযোগ করেন। স্থানীয় একাধিক কৃষকের ভাষ্য, এমনভাবে মাটি নিচ্ছেন, এত গভীর করছেন, পাশের জমি ভেঙে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

এ সম্পর্কে ভাটার মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি জোর করে মাটি কাটছেন না। টাকা দিয়ে মাটি কিনে নিয়েছেন। তাঁর কাছে স্থানীয় এক ব্যক্তি মাটি বিক্রি করেছেন।

ভোলার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল মালেক মিয়া বলেন, করোনাকাল ও লকডাউনের কারণে অভিযোগ পেয়েও অভিযান চালানো যাচ্ছে না। তারপরও প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তহসিলদারকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তের জন্য বলা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন