default-image

বরিশালের উজিরপুরের কুড়ালিয়া গ্রামে ইট বিছানো সরু সড়কের পাশে ফসলি জমিতে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলার সাতলা-কারফা সড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে হওয়ায় যাত্রীছাউনিটি তেমন কোনো কাজে লাগছে না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদ সদস্য ও জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ঊর্মিলা বাড়ৈর উদ্যোগে যাত্রীছাউনিটি নির্মাণ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ হলেও ঊর্মিলা বাড়ৈ নিজেই কাজ করেছেন। এতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

এ সম্পর্কে ঊর্মিলা বাড়ৈ বলেন, কুড়ালিয়া বাজারে যাত্রীছাউনি নির্মাণের প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কেউ জায়গা দেননি। পরে কিছুটা দূরে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। আর্থিক সুবিধা নিতে প্রকল্প গ্রহণ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্মাণকাজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

বিজ্ঞাপন

বরিশাল জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ সদস্য ঊর্মিলা বাড়ৈ উজিরপুরের কুড়ালিয়া গ্রামে একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণের প্রকল্প জমা দেন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলা পরিষদ থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কুড়ালিয়া বাজারের দক্ষিণ দিকে একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য মেসার্স মা-বাবার দোয়া ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গত বছরের জুলাইয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। নভেম্বরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করে।

জল্লা কুড়ালিয়া বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে যাত্রীছাউনিটির অবস্থান। ছাউনিটির পাশ দিয়ে সরু ইটের সড়ক। কিছুটা দূরে ঊর্মিলা বাড়ৈর বাড়ি। ওই সড়কে যানবাহন চলাচল করে না। শুধু হেঁটে চলাচল করা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীছাউনির নামফলকে লেখা রয়েছে, ‘ঠিকাদার: মেসার্স মা-বাবার দোয়া ট্রেডার্স। সৌজন্যে: ঊর্মিলা বাড়ৈ, সদস্য, জেলা পরিষদ। বাস্তবায়নে: জেলা পরিষদ, বরিশাল’।

কুড়ালিয়া গ্রামের নরেশ হালদার ও পলি জাহান বলেন, এই এলাকা দিয়ে কোনো বাস কিংবা যানবাহন চলে না। কী কারণে সরকারি অর্থ অপচয় করে ফসলি জমিতে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হলো, তা বোধগম্য নয়। যাত্রীছাউনি মানুষের কোনো কাজেই আসবে না।

একই কথা বলেন, জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বেবী রানী হালদার। তিনি বলেন, জেলা পরিষদের অর্থায়নে তিনি (ঊর্মিলা বাড়ৈ) নিজের জমিতে যাত্রীছাউনি করেছেন।

অথচ আশপাশে কোনো সড়ক নেই। যানবাহনও চলাচল করে না।

গ্রামের কয়েকজন বলেন, এখানে ঠিকাদার কাজ করেননি। ঊর্মিলা বাড়ৈ নিজেই যাত্রীছাউনি নির্মাণ করেছেন। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে জানতে ঠিকাদার কাউসার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন