স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শুধু সুরমা নয়, জেলার জাদুকাটা, রক্তি, বৌলাই, পাটলাই, নলজুর, মহাসিং, কালনি, কুশিয়ারা, কংস, চেলা, চলতি, ধারাইনসহ সব নদ–নদীতে রয়েছে পাহাড়ি ঢলের পানির ব্যাপক চাপ।

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, ‘প্রতিটি বাঁধে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০ দিন ধরে এসব বাঁধে পানির চাপ থাকায় বাঁধগুলো এখন নড়বড়ে হয়ে গেছে। আমরা এখন বাঁধ রক্ষার পাশাপাশি জোড় দিচ্ছি ধান কাটার ওপর।’

২০ দিন ধরে কখনো ব্যাপক, আবার কখনো কম পরিমাণে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের মেঘালয় থেকে নামছে পাহাড়ি ঢল। এতে জেলার নদ-নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝুঁকিতে পড়েছে জেলার সব হাওরের বোরো ধান। একের পর এক হাওরের বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে ঢলের পানি ঢুকে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের ফসল। ইতিমধ্যে জেলার ১৭টি ছোট–বড় হাওর ও বিলের ৫ হাজার ৫১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়েছে কৃষি বিভাগের হিসাবমতে। তবে স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। প্রথম দফা পাহাড়ি ঢলের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আবার দ্বিতীয় দফায় ঢল নামতে শুরু করে।

সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ বলছে, এ পর্যন্ত হাওরে ধান কাটা হয়েছে ৫০ হাজার ৯৯৫ হেক্টর। তারা দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। মাঠে শ্রমিকদের পাশাপাশি কম্বাইন্ড হারভেস্টর ও রিপার কাজ করছে। এবার জেলার ১৩৭টি ছোট–বড় হাওরে ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘প্রতিটি বাঁধ ঝুঁকিতে আছে, বাঁধে পানি ছুঁই ছুঁই করছে। কোনো কোনো বাঁধে ফাটল, ধস দেখা দিয়েছে। আমরা হাওরে ফসল রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছি। কিন্তু যেভাবে উজানের ঢল নামছে, সেটা অস্বাভাবিক। প্রশাসন, পাউবো কর্মকর্তা, কৃষক, জনপ্রতিনিধি সবাই মাঠে আছেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন