default-image

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোল ঘেঁষে গারো পাহাড়ের শোভামণ্ডিত শেরপুরের নালিতাবাড়ী। এই উপজেলার সীমান্তবর্তী বারোমারি গ্রামে পাহাড়ের ঢলে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় ক্যাথলিক খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ফাতেমা রানী তীর্থোৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্তের আগমনে অন্য রকম রূপ নেয় পাহাড়ি এই জনপদ।

তীর্থোৎসব কমিটি ও সীমান্তবর্তী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৪২ সালে উপজেলার বারোমারি গ্রামের পাহাড়ি উপত্যকায় খ্রিষ্টান সাধু লিওর ধর্মপল্লি গড়ে তোলা হয়।

১৯৯৭ সালে ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের ধর্মপাল বিশপ ফ্রান্সিস এ গোমেজ সেই ধর্মপল্লিতে ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে ফাতেমা রানী তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

তীর্থোৎসব ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য বন্দনা চাম্বু গং জানান, ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশ তথা দেশের ভক্তদের কুমারী মারিয়ার প্রতি গভীর বিশ্বাস ও আস্থা থেকে পর্তুগালের ফাতেমা নগরের আদলে ও অনুকরণে এই সাধু লিওর ধর্মপল্লিতে ফাতেমা রানীর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের ৩০ থেকে ৪০ হাজার ভক্ত মা মারিয়ার এ উৎসবে সমবেত হন। সমাজের নানা অন্যায়, রোগবালাই ও অবিচার থেকে মুক্তির আশায় এবং পবিত্র জীবনের দীক্ষা নিতেই ও নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে ভক্তরা এখানে সমবেত হন।

বিজ্ঞাপন
default-image

তীর্থোৎসব কমিটি সূত্রে জানা গেছে, খ্রিষ্ট জাগের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসবের সূচনা করা হয়। রাতে ভক্তদের অংশগ্রহণে হাতে মোমবাতি প্রজ্বালন করে মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আলোর মিছিল বের করা হয়। আলোর মিছিল নিয়ে ভক্তরা পাহাড়ের উঁচু-নিচু, আঁকা বাঁকা প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পরিভ্রমণ করেন। মিছিল শেষে ৪৭ ফুট সুউচ্চ মা মারিয়ার মূর্তির নিচে ভক্তরা আশ্রয় নেন। রাত জেগে রোজরি মালা, আরাধনা, গীতি-আলেখ্য, নিরাময় ও নিশি জাগরণের মাধ্যমে প্রথম দিনের সমাপ্তি ঘটে।

জীবন্ত ক্রুশের পথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের তীর্থোৎসব শুরু হয়। পরে ভক্তদের অংশগ্রহণে যিশুকে জীবন্ত ক্রুশের মাধ্যমে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সেই দৃশ্য নাটিকার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এ সময় ভক্তরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে মহা খ্রিষ্ট জাগের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে তীর্থোৎসবের।

তীর্থোৎসব ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও মরিয়মনগর ধর্মপল্লির ফাদার সুবল রোজারিও জানান, ক্যাথলিক খ্রিষ্টভক্ত ছাড়াও অন্য ধর্মের মানুষও এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। তীর্থোৎসবকে ঘিরে ধর্মপল্লির পার্শ্ববর্তী মাঠে আয়োজন করা হয় তীর্থ মেলার।

বারোমারি সাধু লিওর ধর্মপল্লির পাল পুরোহিত ও তীর্থোৎসব কমিটির আহ্বায়ক তরুণ বনোয়ারী বলেন, প্রতিবছর ধর্মীয় চেতনায় দেশ-বিদেশের ৩০-৪০ হাজার ভক্ত তীর্থোৎসবে সমবেত হন। তাঁরা ফাতেমা রানীর করকমলে অবনত মস্তকে হৃদয়-মন উজাড় করে ভক্তি-শ্রদ্ধা ও অকৃপণ সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করেন। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা করে সবাই যাঁর যাঁর কর্মস্থলে ফিরে যান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন