বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ৮টার দিকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এ সময় যাত্রী ও টিকিট কালোবাজারি চক্রের সদস্যদের সঙ্গে হট্টগোলও শুরু হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, গত বুধবার বিকাল থেকে কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। যেসব টিকিট কাউন্টার থেকে দিচ্ছে, সব টিকিট তাঁরাই কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় সবাই চিহ্নত। তারপরও জিআরপি থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

মাদারগঞ্জ এলাকার এক যাত্রী ভোর ৫টার দিকে টিকিট নিতে আসছিল। কিন্তু কাউন্টার থেকে টিকিট পাননি। পরে কালোবাজারিদের দ্বারস্থ হন। কালোবাজারিরা তাঁর কাছে ২৫৫ টাকার একটি টিকিট ১ হাজার টাকা করে চান। তাঁর কাছে এতো টাকা না থাকায় তিনি টিকিট ছাড়াই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। একাধিক কালোবাজারিকে দেখা গেল, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে। যাদের সঙ্গে কথা বলছিল, তাঁরা কালোবাজারিদের সদস্য। একাধিক কালোবাজারি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের সঙ্গে দরদাম করে টিকিট বিক্রি করছেন। আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকলেও, তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

যাত্রী সেজে এই প্রতিবেদক কথা বলেন একাধিক কালোবাজারির সঙ্গে। ওইসব কালোবাজারি বলেন, জিআরপি পুলিশ সদস্য ও রেলওয়ের অল্প সংখ্যাক কর্মচারী কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। প্রত্যেকটি লাইনে তাঁদের সদস্যদের দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। তাঁদের টাকা দিতে হয়। ওইসব সদস্যদের পুলিশরা চেনেন। ফলে পুলিশকেও মাসোহারা দিতে হয়। প্রত্যোকটি টিকিটের পেছনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হয়। ফলে তাঁরা একটি টিকিট ১ হাজার নিচে বিক্রি করেন না।

জামালপুর শহরের জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা আশিকুর রহমান ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি কর্মস্থলে ফেরত যাওয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন। তিনি বলেন, আরাম ও স্বস্তিদায়ক যাত্রার অন্যতম যোগাযোগব্যবস্থা হলো ট্রেন। জামালপুর অধিকাংশ মানুষই ট্রেনে ভ্রমণ করে থাকেন।

জামালপুরের স্টেশনমাস্টার মো. আছাদ উজ জামান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘টিকিট কালোবাজারি হয়; এটি সত্য। তবে আমার প্ল্যাটফর্মের মধ্যে কালোবাজারিরা টিকিট বিক্রি করে না। শুধু এই স্টেশনে নয়, বিভিন্ন স্টেশনের টিকিট এইখানে বিক্রি হয়। বিষয়গুলো জিআরপি থানাকে জানানো হয়েছে।’ তবে এই বিষয়ে তিনি জিআরপি থানাকে অবহিত করার কথা বলার ৫১ দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

ট্রেনের আসন, টিকিট ও দরদাম

ঢাকা-জামালপুর রেলপথে প্রতিদিন আন্তনগর ট্রেন তিস্তা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, অগ্নিবীণা ও জামালপুর এক্সপ্রেস চলাচল করে। ট্রেনগুলোতে মোট ১ হাজার ৮৭টি আসন জামালপুরের জন্য বরাদ্দ।

একাধিক যাত্রী ও কালোবাজারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসি কামরায় একটি টিকিট ৩৬৮ টাকার জায়গায় ঈদের কারণে কালোবাজারে ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসি কেবিনে ৪৩৭ টাকার স্থলে ১ হাজার ১২০০, শোভন চেয়ার ১৯০ টাকার স্থলে ১ হাজার, প্রথম শ্রেণির টিকিট ২৫৫ টাকার স্থলে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি মো. গোলজার হোসেন বলেন, ‘টিকিট কালোবাজারি বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা লাইনে লোক দাঁড় করিয়ে দিয়ে, টিকিট নিয়ে যাচ্ছেন, বিষয়টি আজই শুনলাম। কোনো পুলিশ সদস্য কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকলে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জামালপুরের স্টেশনমাস্টার মো. আছাদ উজ জামান বলেন, ‘টিকিট কালোবাজারের সঙ্গে স্টেশনের কেউ জড়িত নন। তবে টিকিট কালোবাজারি হয়; এটি সত্য। কালোবাজারিদের রোধ করার দায়িত্বটা আমার নয়। তবে বিষয়গুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলবো।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন