অন্যদিকে, দৌলতদিয়া ঘাটে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে। প্রতিটি ঘাটেই মানুষের ভিড়। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীবাহী শত শত পরিবহন যানজটে আটকে আছ। ফেরিঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দের জমিদারব্রিজ পর্যন্ত যানজট প্রায় আট কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে গাড়ির সারি আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

default-image

চুয়াডাঙ্গা থেকে গতকাল রাত আটটায় ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী একটি বাসের চালক মো. মামুন আজ বেলা ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত ১১টা থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে ঘাটের জ্যামে আটকে আছেন তিনি। যাত্রীরা সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
যশোরের চৌগাছা থেকে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রওনা দিয়ে রাত ১০টার দিকে ঘাট থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পেছনে আটকা পড়ে সোনালী পরিবহন নামের একটি বাস। বাসটির সুপারভাইজার খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছি। অনেকের আজ সকালে অফিস করার কথা। অনেকে অফিস ধরতে পারছেন না।’

চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা একটি পরিবহনের যাত্রী মো. জাহিদ হোসেন জানান, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। আজ সকাল আটটার দিকে তাঁর অফিসে থাকার কথা। কিন্তু যানজটের কারণে সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না।

দৌলতদিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, ঈদ শেষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন। এ কারণে ঘাট এলাকায় এত চাপ পড়েছে। আগের দিন শুক্রবার রাতের গাড়ি এখনো পার হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালিদ নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ২১টি ফেরি চলছে। ঈদ শেষে সবাই কাছাকাছি সময়ে ঢাকার দিকে ফেরায় ঘাটে যানবাহনের চাপ পড়েছে। এ কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ২৭টি যানবাহন পার হয়েছে, যা বিগত কয়েক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে মোটরসাইকেল পার হয়েছে আড়াই হাজার এবং ছোট গাড়ি ছিল প্রায় ছয় হাজার।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন