বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মধুপুরের পুরো পাহাড়ি অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপাদন হয়ে থাকে। শুধু মধুপুর উপজেলাতেই আনারস উৎপাদন হয় প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে। বিপুল পরিমাণের এই আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ করে রপ্তানির মাধ্যমে মধুপুরকে প্রকৃতই ‘ক্যাপিট্যাল অব পাইনাপেল’–এ পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ জন্যই রপ্তানিযোগ্য উন্নত জাতের আনারস আমদানি ও চাষিদের মাধ্যমে বিতরণের কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মহিষমারা গ্রামের আনারস চাষি ছানোয়ার হোসেন জানান, ইন্টারনেট ঘেঁটে তিনি জানতে পেরেছেন যে আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ থাকলে এমডি টু জাতের আনারসের ফলন ভালো হয়। তার সব গুণাগুণ মধুপুরের মাটি ও আবহাওয়ায় রয়েছে। তাই তিনি এ আনারস চাষে আগ্রহী হয়েছেন। প্রথম অবস্থায় এক বিঘা জমিতে এ চারা লাগিয়েছেন তিনি।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফিলিপাইন থেকে আনা এই উন্নত জাতের আনারসের এক লাখ চারা মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নে ১৩ ডিসেম্বর ১৭ কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়। চারা বিতরণের আগে কৃষক, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে হাতে–কলমে রোপণ ও পরিচর্যা পদ্ধতি শেখানো হয় তাঁদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের’ প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ জানান, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এমডি টু নামের উন্নত জাতের আনারস ফিলিপাইন থেকে আনার জন্য ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন। সর্বক্ষণ যোগাযোগ রক্ষা করে বিএডিসির মাধ্যমে এমডি টু জাতের আনারস আমদানির ব্যবস্থা করেন। উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে।

প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ আরও জানান, এমডি টু জাতের আনারস রপ্তানিযোগ্য। নতুন জাতের আনারসের সাইজও ভালো। দেশীয় আনারসের তুলনায় অনেক বেশি মিষ্টি। ভিটামিন সি–এর পরিমাণ দেশি আনারসের চেয়ে তিন–চার গুণ বেশি। এই আনারস দ্রুত পচে না। এ ছাড়া দেশীয় আনারসের চোখগুলো থাকে ভেতরের দিকে। নতুন এ জাতের আনারসের চোখগুলো থাকে বাইরের দিকে। ফলে পুষ্টিগুণসম্পন্ন অংশের অপচয় কম হয়। পোকার আক্রমণ কম হয়। এ আনারস দেশীয় আনারসের মতোই ১৬ মাসে ফলন আসে। পরীক্ষামূলকভাবে এ আনারস মধুপুরে চাষ শুরু হয়েছে। রপ্তানিযোগ্য এ আনারসের টিস্যু অন্য কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে মধুপুরকে প্রকৃতই ক্যাপিটাল অব পাইনাপেলে পরিণত করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, নির্বাচিত কয়েক কৃষকের মধ্যে এমডি টু চারা বিতরণ করা হয়েছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, আমদানি করা উন্নত জাতের আনারসের চারা নেওয়ার ব্যাপারে অনেকেই আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম অবস্থায় বড় চাষিদের এ চারা দেওয়া হয়েছে। ফলন ভালো হলে এ জাতের সম্প্রসারণ করা যাবে। অন্য কৃষকদের মধ্যেও বিতরণ করা যাবে। ক্ষতি হলে বড় কৃষকেরা বিষয়টি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন