বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের নন্দিরকুটি জুম্মারপাড় সীমান্তে আন্তর্জাতিক পিলার নম্বর ৯৩৭/৮ এস–এর কাছ থেকে ৯৩৮ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক ও ৭৩ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণকাজের বিএসএফের কুর্শারহাট ক্যাম্পের সদস্যরা বাধা দেন। বিএসএফের সদস্যরা নয় দিন ধরে সীমান্তে লাল পতাকা টাঙিয়ে জিরো লাইনে বাঁশের চৌকি তৈরি করে অবস্থান নিয়ে ২৪ ঘণ্টা টহল অব্যাহত রেখেছেন।

এমন অবস্থায় ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ও গংগাহাট সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি সদস্যরা লাল পতাকা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিএসএফকে বারবার তাগিদ দিলেও তারা লাল পতাকা সরিয়ে নেয়নি। বাধ্য হয়ে বিজিবি সদস্যরা ফুলবাড়ী থেকে নাগেশ্বরী নির্মাণাধীন সড়কে লাল পতাকা টাঙিয়ে ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার রেখেছেন। ফলে জিরো লাইনের সড়কের নির্মাণকাজ করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সড়কের কাজ শুরু হলে আবারও বাধা দেয় বিএসএফ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জান্নাতী বেগম বলেন, বিএসএফ সড়ক নির্মাণকাজের বাধা ও লাল পতাকা তোলায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সফিকুল আজম বলেন, ‘আমরা যখনই কাজ করতে যাই, তখনই বিএসএফ বাধা দেয়। তারা ৩০০ মিটার সড়কের কাজ বন্ধ করে দেয় এবং লাল পতাকা টাঙিয়ে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করছে।’

সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম বলেন, এ কাজে বিএসএফ বহুবার বাধা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সব সময় বিজিরির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম তৌহিদুল আলম বলেন, সড়কটির কিছু অংশ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজের মধ্যে পড়ায় বিএসএফ নির্মাণকাজে আপত্তি করে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো দেশই পাকা স্থাপনা করতে পারবে না। সওজের নির্মাণাধীন জিরো লাইনের ৩০০ মিটার সড়কের নকশা বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাদের কাছ থেকে অনাপত্তি পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন