default-image

ফেনী সদর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে সাবেক এক সেনাসদস্যের দুটি টিনের ঘর পুড়ে গেছে। এর মধ্যে একটি ঘরে থাকা এক যুবক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার দক্ষিণ অলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া যুবকের নাম মো. সোহাগ (২৮)। তিনি মধ্যম অলিপুর গ্রামের মৃত ছালে আহম্মদের ছেলে। সোহাগ তাঁর মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে সাবেক সেনাসদস্য নুর নবীর বাড়িতে থাকতেন। নুর নবী পরিবার নিয়ে ঢাকায় বাস করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গত সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ফেনী সদর উপজেলার দক্ষিণ অলিপুর গ্রামের নুর নবীর বাড়িতে আগুন লাগে। স্থানীয়রা টের পেয়ে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তাদের জানান। খবর পেয়ে ফেনী থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সকালে আশপাশের স্থানীয় উৎসুক লোকজন ওই ঘরের মেঝেতে সোহাগের পোড়া লাশ দেখতে পায়। দুপুর ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরীন সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতোয়ার রহমান, ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার আহম্মদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে তাঁরা সোমবার রাতে ওই বাড়িতে যান। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাতে ঘরে ওই যুবকের পোড়া লাশ তাঁদের চোখে পড়েনি।
পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী, উপসহকারী পরিচালক, ফেনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বাড়ির মালিক নুর নবী মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। তিনি জানান, বাড়িতে তাঁর ঘর খালি পড়ে ছিল। সোহাগদের থাকার জায়গা না থাকায় তিনি তাঁদের তাঁর বাড়িতে বিনা ভাড়ায় থাকতে দিয়েছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার আহম্মদ স্থানীয় লোকজদের বরাত দিয়ে বলেন, সোহাগের কিছুদিন আগে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। সপ্তাহখানেক আগে তিনি তাঁর মা বালি বেগমকে মারধর করেন। আহত অবস্থায় বালি বেগমকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের সময় ছোট ভাই শাহাদাতও তার মায়ের কাছে হাসপাতালে ছিল।

ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার আহম্মদ আরও বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের জন্য সোহাগের মামা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন সোহাগের পরিবারকে ২০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান দিয়েছে।

ফেনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাঁরা সোমবার রাতে ওই বাড়িতে যান। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাতে ঘরে ওই যুবকের পোড়া লাশ তাঁদের চোখে পড়েনি।

মন্তব্য করুন