default-image

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মুলকত আহম্মদ ওরফে কালা মিয়া হত্যা মামলার রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ বেগম জেবুন্নেছা এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২০ আসামির মধ্যে ১৬ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন হুমায়ুন হাছান রাকীব (৩৭), আবদুর রহমান মানিক (৩৬) ও আবু তৈয়ব বাবলু (২৯)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন সুমন চন্দ্র রায় (৩৯)।

রায় ঘোষণার সময় শুধু আবদুর রহমান মানিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি পলাতক আছেন।

খালাসপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন মো. রাসেল, মো. সোহাগ, মোশারফ হোসেন, রুবেল মিয়া, দিদার হোসেন রিপন, আলমগীর হোসেন বাবু, মাঈন উদ্দিন ঝিনুক, মো. জহির, নুর মোহাম্মদ জুয়েল, সাফায়াত আহম্মদ পাটোয়ারী রাকিব, হাছান ইমাম, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. লোকমান হোসেন, মো. শরীফ প্রকাশ কানা টিপু, তৌহিদ উল্যাহ, এনায়েত হোসেন রাজু।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় এক যুবক মুলকত আহাম্মদ ওরফে কালা মিয়ার (২৭) সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে ফেনীর পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাটের উদ্দেশে রওনা হন। মুন্সিরহাটে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে আরও তিনজন যাত্রীবেশী দুর্বৃত্ত অটোরিকশায় ওঠেন। রাত ১২টা পর্যন্ত কালা মিয়া বাড়ি না ফেরায় তাঁকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে ফুলগাজীর জগতপুর সড়কের ধলিয়া টুক্কু মিয়ার পুলের পশ্চিম পাশে পানি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই ফখরুল আহাম্মদ মজুমদার বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফুলগাজী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দুল মোস্তফা ২০১১ সালের ২৮ মে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ২০১২ সালের ২৫ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুদ্দিন মজুমদার।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন